ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক এজাজের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) এ আদেশ দেন। ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, আমার দিক থেকে আমরা কোন ভুল বা অন্যায় করিনি। যেকোনো সিদ্ধান্ত আমরা আইনগতভাবে মোকাবিলা করবো।

দুদকের আবেদনে বলা হয়, মোহাম্মদ এজাজের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ গ্রহণের বিভিন্ন অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। তার বিরুদ্ধে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের অধীনস্থ মিরপুর গাবতলী পশুর হাট ইজারা, ই-রিকশা প্রকল্প, বোরাক টাওয়ার বা হোটেল শেরাটন দখল, বনানী কাঁচাবাজারে দোকান বরাদ্দ, খিলগাঁও তালতলা সুপার মার্কেটের পার্কিং স্থানে দোকান নির্মাণ ও বরাদ্দ, সিটি কর্পোরেশনের ভ্যান সার্ভিস, ফুটপাতে দোকান বরাদ্দসহ ডিএনসিসি’র স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২২ ধারা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা, ২০০৭ এর ৮ বিধিসহ ফৌজদারী কার্যবিধি’র ১৬০ ধারা মতে অভিযোগের বিষয়ে ২৯ জানুয়ারি হাজির হয়ে বক্তব্য দেওয়ার জন্য দুদক থেকে তাকে নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি দুদক কার্যালয়ে উপস্থিত হননি।

দুদকের আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তারা বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছে যে, তিনি দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে যেতে পারেন। তাই অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তার বিদেশ যাত্রা বন্ধ করা প্রয়োজন।

জানা গেছে, মোহাম্মদ এজাজের বিরুদ্ধে দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গত বছরের নভেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকার এক বছরের জন্য মোহাম্মদ এজাজকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ দেয়।