দেশ রূপান্তরের প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি

শীর্ষস্থানীয় ও জনপ্রিয় জাতীয় দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কামাল উদ্দিন সবুজ। পাশাপাশি পত্রিকাটিতে সম্পাদক হিসেবে যোগ দিয়েছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও বহুমাত্রিক লেখক মুস্তাফিজ শফি। ১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বাংলামোটরের অফিসে দুজন আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

কামাল উদ্দিন সবুজ দেশ রূপান্তরে গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তার পৈতৃক নিবাস ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার বাঁশপাড়া গ্রামে। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি ভাষা এবং সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করে সাংবাদিকতায় যুক্ত হন। ১৯৮৫ সালে তিনি ইংরেজি পত্রিকা ডেইলি নিউজ-এ প্রতিবেদক হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করেন। এরপর ১৯৮৮ সালে তিনি দেশের প্রথম ইংরেজি নিউজ এজেন্সি ইউএনবিতে যোগ দেন। প্রায় সাড়ে ৩ বছর সেখানে কাজ করার পর ১৯৯১ সালে তিনি বাসসে (বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা) কাজ শুরু করেন। সেখানে তিনি জ্যেষ্ঠ বার্তা সম্পাদক ছিলেন। কামাল উদ্দিন সবুজ জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন।

সিলেটের সন্তান মুস্তাফিজ শফি পেশাগত জীবনে দেশের শীর্ষস্থানীয় ও বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। কর্মজীবনে তিনি দৈনিক ‘প্রথম আলো’, ‘কালের কণ্ঠ’, ‘সমকাল’, ‘আমার দেশ’, ‘আজকের কাগজ’, ‘মানবজমিন’সহ বেশ কিছু জনপ্রিয় পত্রিকায় কর্মরত ছিলেন। তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন। এ ছাড়া তিনি কালের কণ্ঠের প্রতিষ্ঠাকালীন নির্বাহী সম্পাদক, সমকালে নির্বাহী সম্পাদক ও পরে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি আমার দেশ-এর বিশেষ প্রতিনিধি ও যুগ্ম বার্তা সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে সংবাদপত্র ব্যবস্থাপনা, সংবাদ পরিবেশনায় ও সম্পাদকীয় নীতিনির্ধারণে পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রে দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন মুস্তাফিজ শফি।

তিনি প্রতিবেদক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে অনুসন্ধানী সাংবাদিক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় জাতীয় পর্যায়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি), রোটারি ইন্টারন্যাশনাল, লায়ন্স ক্লাব ও ইউনেসকো ক্লাব মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড পুরস্কার পেয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে তার পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রতিবেদনের ওপর পড়ানো হয়। অতিথি শিক্ষক হিসেবে তিনি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি একজন কবি এবং বহুমাত্রিক লেখক। তার কবিতা, কথাসাহিত্য, গবেষণা ও সাংবাদিকতাবিষয়ক প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা প্রায় দুই ডজন। ইতিমধ্যেই তিনি সিটি ব্যাংক আনন্দ-আলো সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ‘একাত্তরের বিজয়িনী’ গ্রন্থের জন্য পেয়েছেন মোবাইল ফোন অপারেটর রবির সম্মাননা। দেশ রূপান্তরে দায়িত্ব গ্রহণের প্রতিক্রিয়ায় মুস্তাফিজ শফি বলেন, ‘দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে পেশাদারিত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এসেছি। সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল পেশা। “দায়িত্বশীলদের দৈনিক’ এই স্লোগান নিয়ে এগিয়ে চলা দেশ রূপান্তরের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি। সততা, পেশাদারিত্ব ও জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও পাঠকবান্ধব সাংবাদিকতার ধারাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব।’

রূপায়ণ গ্রুপের অর্থায়নে ‘দায়িত্বশীলদের দৈনিক’ স্লোগান নিয়ে ২০১৮ সালে যাত্রা শুরু করে দেশ রূপান্তর। অনেকগুলো সাড়াজাগানো অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে পত্রিকাটি পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। প্রিন্ট পত্রিকার পাশাপাশি অনলাইন ও ইউটিউব চ্যানেলও জনপ্রিয়তা পেয়েছে।