বরগুনার আমতলীতে টিওবয়েল, জেলে, ভিজিডি কার্ডের ও ছাগল পাইয়ে দেয়ার কথা বলে অসহায় ভিক্ষুক দরিদ্রের কাছ থেকে কয়েক হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একজন ভুক্তভোগী এ সকল অভিযোগের প্রতিকার চেয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
এমন অভিযোগ সাবেক আ.লীগ ও বর্তমান বিএনপি সর্মাথক মো. শাহিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে।
মো. শাহিন হাওলাদার উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের মো. সুলতান হাওলাদারের ছেলে। এ বিষয়ে টাকা ফেরৎ ও বিচার চেয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন হলদিয়া ইউনিয়নের ছোনাউঠা গ্রামের মো. নিজাম মৃধার ছেলে মো. অলি মৃধা।
অলি মৃধার লিখিত অভিযোগে জানা যায়, আমতলী উপজেলার ৪নং হলদিয়া ইউনিয়নের উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের মো. সুলতান হাওলাদারের ছেলে মো. শাহিন হাওলাদার ৪ মাস আগে অলি মৃধার কাছ থেকে টিওবয়েল বাবদ ১০ (দশ হাজার) টাকা, জেলে নাম বাবদ ৪ (চার হাজার) টাকা, ভিজিডি কার্ড বাবদ ৪, (চার হাজার) টাকা, ছাগল দেওয়ার কথা বলে ৪ (চার হাজার) টাকা নিয়েছে প্রায় চারমাস অতিবাহিত হলে এসবের কোন খবর নাই।
অলি মৃধা তার লিখিত অভিযোগে আরো উল্লেখ করেন, অদ্যবদি আমাকে টিওবয়েল, ছাগল, ভিজিডি কার্ড ও জেলের নাম তালিকাসহ কোন কিছুই দেয় নাই। এ ছাড়াও তিনি হলদিয়া ইউনিয়নের অনেক মানুষের কাছ থেকে এভাবে নাম দেয়ার কথা বলে টাকা নিয়েছে যে, প্রশাসনকে টাকা দিয়ে নাম অন্তর্ভুক্ত করে দিবে। ২ নং ওয়ার্ডের ছোনাউঠা গ্রামের মরিয়ম বেগম নামের এক (ভিক্ষুক) জানান, তার কাছ থেকে ভিজিডি কার্ড দেয়ার কথা বলে ২ হাজার টাকা নিয়েছে। মাসুমা (৩০) হালিমা (৪৫) নাছিমা (৪০) আছিয়া (৫৫) ছালাম মোল্লা (৬০) হেলাল মোল্লা (৪০) সহ অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে ২ হাজার থেকে শুরু করে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়েছে।
পরে ভুক্তভোগীরা জানতে পারে শাহিন হাওলাদার কাউকে কোন টাকা না দিয়া নিজে খেয়ে ফেলেছে। এখন আমরা টাকা চাইলে আজ দিব কাল দিব বলে ঘুরাইতেছে এবং টাকা চাইলে বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকি দিতেছে পাওনাদারদের।
এই শাহিন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এর পূর্বে সাবেক চেয়ারম্যান শহিদ মৃধার একান্ত কাছের লোক ও আওয়ামীলীগ সমার্থক নেতা ছিলো।
বর্তমানে সে তার মামা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুব মৃধার পরিচয়ে বিএনপি সর্মাথক দাবী করে সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে টিওবয়েল, জেলেকার্ড ভিজিডি কার্ড, ছাগল দেয়ার কথা বলে টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করছেন বিভিন্ন লোকজনের কাছে থেকে।
এ বিষয় অভিযুক্ত শাহিন হাওলাদারের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে বলেন, অলি মৃধার কাছ থেকে ১৮ হাজার টাকা ধার নিয়েছি। যথাসময়ে দিয়ে দিবো। অন্যদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মাদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।