গোবিন্দগঞ্জে নিম্নমানের ইটের খোয়ায় সড়ক নির্মাণের অভিযোগ

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ফাঁসিতলা থেকে ধর্মা পর্যন্ত সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়ক নিম্নমানের ইটের খোয়া দিয়ে নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ফাঁসিতলা থেকে ধর্মা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার রাস্তা পাকা করার ব্যয় ধরা হয় এক কোটি ৬৬ লাখ টাকা। দরপত্রের মাধ্যমে কার্যাদেশ পান গাইবান্ধার মেসার্স নম্রতা এন্ড পারিকা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। তবে তার পক্ষে পৌরশহরের আজাদ কনস্ট্রাকশনের স্বত্তাধিকারি আজাদ গত বছরের ৭ ডিসেম্বর রাস্তাটি নির্মাণ কাজ শুরু করেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) লোকজনকে ‘ম্যানেজ’ করে ঠিকাদার দায়সারাভাবে রাস্তা নির্মাণের কাজ করছেন। 

রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি)  বিকালে  সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘ সাড়ে ৩ কিলোমিটারে রাস্তার পাশের মাটি ভরাটও করা হয়েছে কোনোমতে। পুরো সাববেজের জন্য ব্যবহৃত খোয়া নিম্নমানের ইটের। স্থানীয়ভাবে যা রাবিশ বলে পরিচিত। রাস্তার মাঝে মাঝে স্তূপ করে রাখার পর ইটের গুঁড়ামিশ্রিত ব্যবহার অযোগ্য ইটের খোয়া রাস্তায় বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

তবে ওই রাস্তার নির্মাণ কাজ দেখার দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারি প্রকৌশলী সুলতান  জানান, তিনি নিম্নমানের ইটের খোয়া দিয়ে রাস্তা নির্মাণের বিষয়টি জানেন না।

স্থানীয় বাসিন্দা হাসু পাঠান বলেন, রাকিব সরকার ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাস্তা নির্মাণে যে ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে, এমন খোয়া দিয়ে কোনো কাজ হয় না। লাঞ্ছিত হওয়ার ভয়ে তারা এ নিয়ে প্রতিবাদও করতে পারছেন না। তাদের আশঙ্কা, নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করে ঠিকাদার এভাবে কাজ শেষ করে গেলে অল্পদিনের মধ্যে রাস্তা দেবে নষ্ট হয়ে যাবে।

মেসার্স  আজাদ কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী আজাদ বলেন, ১ নম্বর খোয়া দিয়ে কাজ চলতেছে। হয়তো সঙ্গে কিছু খারাপ খোয়া থাকতে পারে।

উপজেলা প্রকৌশলী মো.মাহবুবুল হক জানান, বিষয়টি শুনার পর কাজ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএও) সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।