ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫তম সমাবর্তন গতকাল সোমবার রাজধানীর আফতাবনগর খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (বিপিএসসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে আন্ডার গ্র্যাজুয়েট ও গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ১ হাজার ৮৫৭ জন শিক্ষার্থীকে সনদ দেওয়া হয়। এ ছাড়া সিজিপিএ ৪.০-এর মধ্যে ৪.০ পাওয়া অনন্য মেধাবী ৯ জন শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয় স্বর্ণপদক।
ড. মোবাশ্বের মোনেম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, জ্ঞান ও দক্ষতা তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা নৈতিকতার আলোকে পরিচালিত হয়। সেইসঙ্গে, দেশকে ভালোবাসার পরামর্শ দেন তিনি। তার মতে, দেশের কল্যাণ আত্মিক মুক্তি দেয়। সমকালীন বৈশ্বিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি জাতীয় ও বৈশ্বিক অস্থিরতা দূর করে শান্তির ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে তরুণদের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি প্রকৃতির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, আমাদের অস্তিত্ব প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। তাই, ক্রমাগত ধ্বংসের দিকে যাওয়া প্রকৃতি রক্ষার নৈতিক দায়িত্ব সবাইকে পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা ছিলেন স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় সর্বদা মেধাকে প্রাধান্য দিয়ে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে স্বচ্ছতার সঙ্গে চলার চেষ্টা করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শামস রহমান বলেন, ডিগ্রি অর্জনের আত্মতৃপ্তিতে ‘কমফোর্ট জোনে’ বসে থাকলে জড়তা চলে আসবে। তাই, ভবিষ্যৎ রচনা করতে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। কারণ এখন প্রতিযোগিতা বিশ্বের সবেচেয়ে দক্ষ মানুষটির সঙ্গেও হতে পারে। সেইসঙ্গে, নৈতিকতা ও মানবিকতা দিয়ে সুনাগরিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিশিষ্টজন, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারপারসন, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, গ্র্যাজুয়েট ও তাদের অভিভাবকরা অংশ নেন। শিক্ষাজীবনের শেষে যথাসময়ে সনদ হাতে পাওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা। বিজ্ঞপ্তি