জলবায়ু ন্যায্যতা নিশ্চিতে ১৪ দফা নাগরিক ইশতেহার

দেশের জ্বালানি খাতে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে জ্বালানি সার্বভৌমত্ব ও জলবায়ু ন্যায্যতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ ও জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (জেটনেট-বিডি)। এ লক্ষ্যে তারা একটি ‘১৪ দফা নাগরিক ইশতেহার’ উপস্থাপন করেছে।

গতকাল সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি এই ইশতেহার গ্রহণ ও বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।

ইশতেহারে ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের সব খাতে ‘নেট জিরো’ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং একটি সমন্বিত জাতীয় জ্বালানি রূপান্তর নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনগুলোর মতে, বিদ্যমান জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর নীতি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, অর্থনীতি ও পরিবেশ সবকিছুকেই ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।

উপস্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, জ্বালানি খাতের কাঠামোগত সংস্কারের জন্য একটি সমন্বিত জাতীয় জ্বালানি রূপান্তর নীতিমালা প্রণয়ন; ব্যয়বহুল কয়লা ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর; বিদ্যুৎ খাতের পাশাপাশি কৃষি, তৈরি পোশাক ও পরিবহন খাতের জন্যও ২০৫০ সালের মধ্যে নেট জিরো লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ।

এ ছাড়া বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে একটি কার্যকর ও স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির যন্ত্রাংশ আমদানিতে আগামী পাঁচ বছরের জন্য শূন্য শুল্ক সুবিধা দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবিরের সঞ্চালনায় জ্বালানি খাতের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইইইএফএর লিড অ্যানালিস্ট ও জেটনেট-বিডির উপদেষ্টা শফিকুল আলম।