জুলাই অভ্যুত্থানের পর গত ১৭ মাসে সারা দেশে ৯৭টি মাজারে হামলা হয়েছে। এর মধ্যে হামলার ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে। গতকাল সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে সুফি সমাজকেন্দ্রিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘মাকাম : সেন্টার ফর সুফি হেরিটেজ’ এর সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
মাকামের প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে সারা দেশে ১৩৪টি মাজারে হামলার খবর পাওয়া গেলেও অনুসন্ধান করে ৯৭টিতে হামলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ৩৭টি হামলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এর মধ্যে ৬টি গুজবও শনাক্ত করা হয়েছে। হামলার শিকার ৯৭টির মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগেই ৬৪টি হামলার ঘটনা ঘটে। যা মোট ঘটনার দুই-তৃতীয়াংশ। জেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কুমিল্লায়, ১৭টি। নরসিংদীতে ১০টি ও ঢাকায় ৯টি হামলা হয়েছে। বিভাগভিত্তিক হামলার পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, আট বিভাগের মধ্যে ঢাকায় ৩৬টি, চট্টগ্রামে ২৮, সিলেটে ৯, ময়মনসিংহে ৮, রাজশাহীতে ৬, খুলনায় ৫, রংপুরে ৩ ও বরিশালে ২টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫৯টি হামলা ধর্মীয় মতবিরোধ, ২১টি স্থানীয় বিরোধ, ১৬টি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে হয়েছে। পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে ঘটেছে একটি হামলা। হামলার ধরনে পার্থক্য থাকলেও প্রায় সব ক্ষেত্রে ‘তৌহিদি জনতা’ বেশভূষা ও নেতৃত্বে ছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। ভিডিও বিশ্লেষণ করে বলা হয়, অন্তত ২৩টি ঘটনায় ‘নারায়ে তাকবির’ সেøাগান দিয়ে হামলা করা হয়েছে। মাজারে হামলার সঙ্গে মাজারসংশ্লিষ্ট ৭টি মসজিদেও হামলা হয় বলে জানিয়েছে মাকাম।
মাজারে হামলায় রাজনৈতিক দলগুলোর সম্পৃক্ততার তথ্য তুলে ধরে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সবচেয়ে বেশি ১৩টি হামলায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা জড়িত। এ ছাড়া ৪টি ঘটনায় বিএনপি, ৪টিতে জামায়াতে ইসলামী, ২টিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, ১টিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনিসিপির) ও ১টিতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতাকর্মীরা জড়িত।
সারা দেশে এসব হামলায় ৩ জন নিহত ও ৪৬৮ জন আহত হওয়ার তথ্য দিয়েছে মাকাম। নিহতদের মধ্যে ২ জন ঢাকার, ১ জন ময়মনসিংহে।