সম্প্রতি কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের একটি ভিডিও সাক্ষাৎকার ফাঁস হয়েছে। সেখানে নিজেকে ‘শয়তান’ নয় বলে দাবি ছিল এপস্টেইনের। বরং নিজেকে একজন ‘স্বল্পমাত্রার যৌন শিকারি’ বলে দাবি করেন তিনি।
সাক্ষাৎকারটি নেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক উপদেষ্টা স্টিভ ব্যানন। নিউইয়র্ক সিটিতে এপস্টেইনের রাজকীয় বাড়িতেই এটি ধারণ করা হয়েছিল। তবে কবে, কোন মাসে এই সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন এপস্টেইন, তা জানা যায়নি।
সাক্ষাৎকারে ব্যানন এপস্টেইনকে জিজ্ঞেস করেন, আপনি কি নিজেকে শয়তান মনে করেন?
প্রত্যুত্তরে কালো শার্ট এবং সানগ্লাস পরা এপস্টেইন বলেন, না, আমি শয়তান নই। আমার ঘরে একটি খুব ভালো মানের আয়না আছে। সেখানে প্রায়ই আমি নিজেকে দেখি।
পরে একই প্রশ্ন আবার করলে ব্যাননকে এপস্টেইন বলেন, আমি জানি না। কিন্তু আপনি আমাকে এই প্রশ্ন কেন করছেন?
ব্যানন প্রশ্ন করেন, লোকজন আপনাকে ‘ক্লাস থ্রি যৌন শিকারি’ বলে ডাকে। এটা কি সঠিক?
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রে ‘ক্লাস থ্রি যৌন শিকারি/অপরাধী’ বলতে সেই সব যৌন অপরাধীদের বোঝানো হয়-যারা সামাজিক কিংবা জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি।
এপস্টেইন বলেন, না, আমি ক্লাস থ্রি যৌন অপরাধী নই। আমি যৌন শিকারি এটা সত্য, কিন্তু তা একেবারেই স্বল্পতম মাত্রার।
তারপর ব্যানন জিজ্ঞেস করেন, তার মানে আপনি স্বীকার করছেন যে আপনি অপরাধী।
জবাবে এপস্টেইন বলেন, হ্যাঁ।
ব্যানন আবারও জিজ্ঞেস করেন, আপনি অর্থের বিনিময়ে অনেক জঘন্য ব্যক্তির উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। আপনি কি মনে করেন যে আপনার উপার্জিত অর্থ নোংরা?
উত্তরে এপস্টেইন বলেন, না, আমি তা মনে করি না। আমি যে অর্থ উপার্জন করেছি, বৈধভাবেই করেছি। তবে ন্যায়-নীতির ব্যাপারটি খুবই জটিল। এ ব্যাপারে আমার সঙ্গে অনেকের দ্বিমত থাকতেই পারে।
প্রসঙ্গত, বিনিয়োগ ব্যবসায় দক্ষতা ও বিচক্ষণতার সুবাদে অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল অর্থের মালিক বনে যান জেফ্রি এপস্টেইন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিন আইল্যান্ড, পাম বিচে নিজের ‘সাম্রাজ্য’ গড়ে তোলেন।
দেশ-বিদেশের প্রভাবশালী সব রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা আমোদ-ফূর্তির জন্য এপস্টেইনের ‘সাম্রাজ্যে’ যেতেন।
২০১৯ সালের ৬ জুলাই নিউইয়র্কে গ্রেপ্তার হন জেফ্রি এপস্টেইন। তার পরের মাসেই কারাগারে তার মৃত্যু হয়। দাবি করা হয়, কারাগারে আত্মহত্যা করেছেন এপস্টেইন।