ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে চলতি বছরের সবচেয়ে বড় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে তাপমাত্রা মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসার মধ্যে হাজারো মানুষ গরমের ব্যবস্থা ছাড়া হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে নতুন দফা আলোচনার ঠিক এক দিন আগে, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে এ হামলা চালানো হয়। প্রচণ্ড শীতের মধ্যে এই হামলায় কয়েক লাখ মানুষ গরমের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েছে।
কিয়েভ, খারকিভ, ওডেসা ও অন্যান্য শহরের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও তাপ সরবরাহকারী স্থাপনায় ৭০টির বেশি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রায় ৪৫০টি ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, তারা মাত্র ৩৮টি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পেরেছে, ফলে বহু ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। শুধু কিয়েভেই এক হাজারের বেশি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন গরমের সংযোগ হারিয়েছে, আর খারকিভে একটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পূর্ণভাবে অচল হয়ে গেছে।
বেসরকারি জ্বালানি কোম্পানি ডিটিইকে জানিয়েছে, এটি চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী হামলা। রাতভর হামলায় তাদের দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব স্থাপনার কিছু ছিল শুধুমাত্র বেসামরিক তাপ সরবরাহের জন্য, যা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সম্ভাব্য লঙ্ঘনের প্রশ্ন তুলেছে।
এই হামলা এসেছে একটি স্বল্পমেয়াদি 'এনার্জি ট্রুস' বা জ্বালানি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরপরই। একই দিনে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে কিয়েভ সফরে ছিলেন। জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, শীতের সবচেয়ে ঠান্ডা দিনগুলোতে বেসামরিক মানুষকে 'সন্ত্রস্ত' করতেই মস্কো এই হামলা চালাচ্ছে। তিনি রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াতে এবং বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত সরবরাহের আহ্বান জানান।
হামলার পর অনেক বাসিন্দা রাত কাটিয়েছেন মেট্রো স্টেশন ও উষ্ণ জনসাধারণের আশ্রয়কেন্দ্রে। সীমিত জনবল ও সরঞ্জামের মধ্যেই বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ পুনরুদ্ধারে জরুরি কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন প্রকৌশলীরা। চরম দুর্ভোগের মধ্যেও ইউক্রেনের সাধারণ মানুষের মধ্যে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষোভ স্পষ্ট, এবং চাপের মুখে কোনো আপসের পক্ষে তারা রাজি নন।