অর্ধশতাধিক কর্মী নিয়ে জামায়াতে যোগ দিলেন কৃষকলীগ নেতা

ভোলার লালমোহনে অর্ধ শতাধিক কর্মী নিয়ে জামায়াতে যোগ দিয়েছেন উপজেলা কৃষক লীগ সভাপতি মো. মোখলেছুর রহমান বকসি। আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার লালমোহন মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় দলটির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মুজিবুর রহমানের হাতে ফুল দিয়ে তিনি যোগদান করেন।

এ সময় তার সঙ্গে আরও প্রায় অর্ধশতাধিক কর্মী জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন। পরে তাদের বরণ করে নেন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ।

জামায়াতে ইসলামীর লালমোহন উপজেলার আমির মাওলানা আব্দুল হক জানান, মোখলেছুর রহমান বিএনপি ও আওয়ামী লীগের অনেক নির্যতনের শিকার হয়েছেন। দুই দলের নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি অনেক আগ থেকেই জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের করতে চেয়েছেন। কিন্তু আমরা দলীয় সিদ্ধান্তে তাকে এক বছর পর্যবেক্ষণে রেখেছি। এক বছরে তার মধ্যে আশানরূপ পরিবর্তন হওয়ায় তাকে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহন করে নিয়েছি।

কৃষকলীগ সভাপতি মো. মোখলেছুর রহমান জানান, তিনি লালমোহন বাজারের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। ছোট বেলা থেকে বিএনপির রাজনীতি করতেন। বিএনপির উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। যার জন্য তাকে ব্যবসায়িকভাবে অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। অসংখ্যবার আওয়ামী লীগের হামলা-মামলার শিকার হতে হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালে ব্যবসায়িকভাবে এক প্রকার চাপ প্রয়োগ করে তাকে আওয়ামী লীগ যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছেন। সে সময় বিএনপির নেতাদের সঙ্গে কথা বলেই তিনি আওয়ামী লীগে গিয়েছেন। পরে তাকে ২০২৩ সালে কৃষক লীগের উপজেলা সভাপতি করা হয়। তবে তিনি ৬ মাসের মাথায় সে পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে দাবি করেন। আওয়ামী লীগের দলে থেকেও তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের হামলা-মামলা থেকে বাঁচিয়েছেন। এমনকি ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে মাঠে সক্রিয়ভাবে থেকে আওয়ামী লীগ বিরোধী আন্দোলন করেছেন। কিন্তু ৫ আগস্টের পর বিএনপির লোকজন তাকে ব্যবসায়িকভাবে দুই কোটি টাকার ক্ষতি করেছে। এমনকি আওয়ামী লীগ ট্যাগ দিয়ে তার বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। বিএনপি এক প্রকার তার সাথে বেইমানি করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম বাবুল জানান, মোখলেছুর রহমান কখনও বিএনপির রাজনীতি করেন নাই। তিনি আওয়ামী লীগ করতেন। তাকে আমরা দলে না নেওয়ায় এখন জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। আওয়ামী লীগের যারা উশৃঙ্খল তারা বিএনপিতে পাত্তা না পেয়ে এখন জামায়াতে যোগ দিচ্ছেন।