ফতেয়াবাদ বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র: সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে তার চুরি!

চট্টগ্রামে হাটহাজারীর ফতেয়াবাদ বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে ২৫০ কিলোভোল্ট ক্ষমতার পরিত্যক্ত একটি ট্রান্সফরমার খুলে অন্তত ২০০ কেজি তামার তার চুরি করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। গত ২ ফেব্রুয়ারি রাতের আঁধারে এই ঘটনা ঘটে। এ সময়ে রহস্যজনক কারণে উক্ত বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা বন্ধ ছিল বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সুত্রে জানা গেছে।

এদিকে সংরক্ষিত একটি বিদ্যুৎ স্থাপনায় পর্যাপ্ত আনসার সদস্য ও কর্মচারী নিয়োজিত থাকা সত্ত্বেও কিভাবে দুর্ধর্ষ চুরির এ ঘটনা ঘটলো তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, ফতেয়াবাদ বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে তামার তার চুরির ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগেও একই স্থাপনায় দুইবার তামার তার চুরির ঘটনা ঘটেছে।

চুরির এসব ঘটনায় পিডিবি’র সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা অবগত থাকলেও জড়িতদের বিরুদ্ধে নেয়নি কোনো আইনি পদক্ষেপ। ফলে এসব ঘটনা বার বার ঘটছে বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের। সর্বশেষ ২ ফেব্রুয়ারি তার চুরির ঘটনা ঘটলেও বিষয়টি গোপন রাখা হয়।

জড়িতদের শনাক্ত করতে গত দুইদিন ধরে ফতেয়াবাদ বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও আশপাশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করতে গেলে বিষয়টি জানাজানি হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, গত এক বছরে (২ ফেব্রুয়ারির ঘটনাসহ) উক্ত বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র থেকে তিন দফায় অন্তত ৭ লাখ টাকা মূল্যের তামার তার চুরি করেছে দুর্বৃত্তরা।

গত ২ ফেব্রুয়ারি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার খুলে তামার তার চুরির ঘটনার বিষয়টি দেশ রূপান্তরকে নিশ্চিত করেছেন হাটহাজারী বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাঈন উদ্দিন।

তার চুরির ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার দায়ে উক্ত বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে নিয়োজিত তিনজন আনসার সদস্য এবং শওকত ও আবেদ নামে দুই কর্মচারীকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে বলেও জানান প্রকৌশলী মাঈন উদ্দিন। তবে সংরক্ষিত একটি সরকারি স্থাপনার ভেতর থেকে তার চুরি কিভাবে সম্ভব, এমন প্রশ্নের উত্তর দেননি তিনি।

নাম প্রকাশ না করে পিডিরি’র এক কর্মকর্তা জানান, চুরি যাওয়া তামার তারের দাম অন্তত দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা। একটি ট্রান্সফরমার থেকে তামার তার খুলতে সময় লাগে অন্তত তিন থেকে চার ঘণ্টা। দীর্ঘ এই সময়ে চুরির ঘটনা টের না পাওয়া রহস্যজনক। সর্ষের মধ্যেই ভূত আছে বলে মন্তব্য এই কর্মকর্তার।

পিডিবি সুত্র জানায়, একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের কয়েলে তামার পরিমাণ তার ক্ষমতার (কেভিএ) ওপর নির্ভর করে। ছোট ডিস্ট্রিবিউশন ট্রান্সফরমারে (৫ থেকে ২৫কেভিএ) ৯ থেকে ৩০ কেজি, ১০০ কেভিএ ট্রান্সফরমারে ৫০ থেকে ১৫০ কেজি, ২৫০ কেভিএ ট্রান্সফরমারে তামার তার থাকে ১০০ থেকে ২০০ কেজির বেশি। বর্তমানে বাজারে এক কেজি তামার তারের দাম মানভেদে ৫৫০ থেকে ১২০০ টাকার বেশি। এই হিসেবে ২৫০ কেভিএ’র ট্রান্সফরমারে তামার তারের দাম দাঁড়ায় দুই লাখ টাকার বেশি।