সংসদ বড়লোকদের আড্ডাখানা থাকবে না: মামুনুল হক

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, “সংসদ শুধু বড়লোকদের আড্ডাখানা বা বৈঠকখানা থাকবে না, বাংলার সংসদ হবে ১৮ কোটি সাধারণ মানুষের সত্যিকারের প্রতিনিধিত্বের জায়গা।”

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নেত্রকোনার দুর্গাপুরের সুসং সরকারি কলেজ মাঠে নেত্রকোনা-১ আসনের ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি শরিফ বিন ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তোলেন। মামুনুল হক প্রশ্ন রাখেন, “হত্যাকারী ফয়সাল করিমকে কারা জামিন করিয়েছে? আপনারা কি আবার সেই খুন, গুম আর হত্যাকাণ্ডের বাংলাদেশে ফিরে যেতে চান?” তিনি উপস্থিত জনতাকে সন্ত্রাসবাদ ও লুটপাটের রাজনীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে ১১ দলীয় জোটের ‘গণজোয়ারে’ শামিল হওয়ার আহ্বান জানান।  

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও বৈষম্য নিরসন এই অঞ্চলের হিন্দু ও উপজাতি সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আপনাদের সঙ্গে অতীতে সব সময় নাটক করা হয়েছে। রাতের অন্ধকারে কালনাগিনী হয়ে ছোবল দিয়ে দিনের বেলায় ওঝা হয়ে ঝাড়তে আসার মতো রাজনীতি আমরা দেখেছি। বিশেষ করে হিন্দু ভাইয়েরা সবচেয়ে বেশি ধোঁকাবাজির শিকার হয়েছেন। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তরা আপনাদের জমি, ঘরবাড়ি এবং ব্যবসা জবরদখল করে ভোগ করেছে।” 

তিনি ঘোষণা দেন যে, ১১ দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে বাংলাদেশ থেকে এই দখলবাজির সংস্কৃতি চিরতরে নির্মূল করার জন্য। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও পাহাড়িদের হাতে হাত রেখে নতুন বাংলাদেশ গড়ার ডাক দেন তিনি।

প্রার্থী পরিচিতি ও প্রতীক ঘোষণা জনসভার শেষ পর্যায়ে মামুনুল হক নেত্রকোনা-১ আসনের জোট মনোনীত প্রার্থী খেলাফত মজলিসের গোলাম রব্বানীর হাতে ‘রিকশা’ প্রতীক এবং নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাসুম মোস্তফার হাতে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক তুলে দেন।

বক্তব্য শেষে তিনি আগামী ১২ তারিখের গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদানের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করার জন্য ভোটারদের কাছে দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন। জনসভায় জোটের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ হাজার হাজার উৎসুক জনতা উপস্থিত ছিলেন।