বন্দর ইস্যুতে জরুরি বৈঠকে ব্যবসায়ী নেতারা

চট্টগ্রাম বন্দরের অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে

চট্টগ্রাম বন্দরে লাগাতার কর্মবিরতিতে সৃষ্ট অচলাবস্থা বিষয়ে ব্যবসায়ী নেতারা জরুরি বৈঠক করেছেন। বাংলাদেশ টেক্সটাইলস মিলস এসোসিয়েশনের গুলশান অফিসে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিইএফ, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ, ডিসিসিআই, এমসিসিআইসহ বিভিন্ন বাণিজ্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে আসন্ন রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং রপ্তানিমুখী পণ্যের চালান নির্বিঘ্ন রাখতে চট্টগ্রাম বন্দরের চলমান অচলাবস্থা দ্রুত নিরসনের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা সতর্ক করে বলেছেন, বন্দরের অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে বাজারে পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রপ্তানি বাণিজ্য মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। তাই দেশের অর্থনীতি ও ভোক্তা স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে দ্রুত সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা।

বৈঠক শেষে সাংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান লাগাতার কর্মবিরতি ও নজিরবিহীন অচলাবস্থায় দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য তথা জাতীয় অর্থনীতিতে মহাবিপর্যয় ঘটেছে।

বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান বলেন, বন্দরের অচলাবস্থার কারণে রপ্তানিকারকদের আর্থিক ক্ষতি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং দ্রুত সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে।

তিনি জানান, গত দুদিন ধরে বন্দর কার্যক্রম বন্ধ থাকায় রপ্তানি পণ্য বন্দরে আটকে আছে। ফলে বিজিএমইএ, বিকেএমইএসহ সংশ্লিষ্ট সব রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান মারাত্মক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। তিনি বলেন, এ পরিস্থিতির প্রভাব শুধু রপ্তানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বিজিএমইএ’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আরও বলেন, বর্তমানে খাদ্যপণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্য বন্দরে আটকে রয়েছে। এসব পণ্য দ্রুত বাজারে সরবরাহ করা না গেলে রমজানকে কেন্দ্র করে ভোক্তা পর্যায়ে সংকট তৈরি হতে পারে। এখন প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত যেন এই ক্ষতি আর বাড়তে না পারে।

বন্দরের বর্তমান সমস্যাকে বন্দর পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের মধ্যকার বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে সেলিম রহমান বলেন, এ বিরোধ বা সমস্যার ভুক্তভোগী হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। তিনি জানান, বন্দরের জটিলতার কারণে রপ্তানিকারকদের ডেমারেজ চার্জ পরিশোধ করতে হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের অর্ডার বাতিলের ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সমস্যার সমাধানে ব্যবসায়ী মহল ইতিমধ্যে নিজস্ব উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছে। তবে পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় বিষয়টি গণমাধ্যমের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর করা হচ্ছে।

জানা গেছে, চলমান অচলাবস্থার জন্য রোজার পণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য খালাসে চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।

আমদানি ও রপ্তানিকারক ব্যবসায়ীরা বলছেন, দ্রুত এ সমস্যার সমাধান না হলে দেশের পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। এর প্রভাব পড়তে পারে আসন্ন রমজানের পণ্য সরবরাহে। পাশাপাশি পণ্য খালাস ও রপ্তানি না করতে পারলে বিলম্ব মাশুলের কারণে লোকসানের আশঙ্কা করছেন তারা।