বাংলা একাডেমির আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে 'অমর একুশে বইমেলা' শুরুর সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রকাশকরা।
আজ বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এই সিদ্ধান্তকে 'আত্মঘাতী', 'অগণতান্ত্রিক' ও 'বাস্তবতাবিবর্জিত' বলে আখ্যা দেন।
বিবৃতিতে প্রকাশকরা অভিযোগ করেন, শত শত প্রকাশকের প্রাণের দাবি ও অস্তিত্বের সংকটকে উপেক্ষা করে বাংলা একাডেমি কোনও আলোচনা ছাড়াই রমজান মাসে বইমেলা শুরুর তারিখ ঘোষণা করেছে, যা প্রকাশনাশিল্পের জন্য 'মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা'-তে পরিণত হয়েছে। গত বছরও ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে মেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত পরবর্তীতে বাতিল হয়েছিল।
প্রকাশকরা তাদের আপত্তির তিনটি কারণ বিবৃতিতে উল্লেখ করেন
প্রথমত, ২০ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবসের আগের দিন ও রোজার দিনে মেলা শুরু হলে বইমেলা পাঠকশূন্য 'ভূতুড়ে মেলা'য় পরিণত হবে, যা কেবল একটি 'নিষ্প্রাণ সরকারি আনুষ্ঠানিকতা' হয়ে থাকবে।
দ্বিতীয়ত, মেলার স্টলকর্মীদের বেশিরভাগই ছাত্র; রোজা রেখে সারাদিন তাদের কাজ করানো 'অমানবিক' ও 'মানবাধিকার লঙ্ঘন' হবে।
তৃতীয়ত, কাগজ-উপকরণের দাম বৃদ্ধির এই সংকটকালে একটি পূর্বনির্ধারিত ব্যর্থ মেলা প্রকাশকদের জন্য 'নিশ্চিত অর্থনৈতিক আত্মহত্যা' ডেকে আনবে।
বিবৃতিতে প্রকাশকরা স্পষ্ট চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ঈদের পরে মেলা হলে যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়, তার দায়ভার আমরা প্রকাশকরাই নেব। কিন্তু রোজার মধ্যে এই 'নিশ্চিত মৃত্যুর দায়ভার কে নেবে?
উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে ৩২টি প্যাভিলিয়ন ও ১৫২টি স্টলের প্রকাশকরা লিখিতভাবে রমজানে মেলা না করার পক্ষে মত দিয়েছেন। প্রকাশকরা সরকার ও বাংলা একাডেমির কাছে অবিলম্বে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং ঈদুল ফিতরের পর বইমেলা আয়োজনের দাবি জানান। তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেন, অন্যথায় যেকোনও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতির দায়ভার আয়োজক প্রতিষ্ঠানকেই বহন করতে হবে।
বিবৃতিতে আহমদ পাবলিশিং হাউজ, কাকলী, অন্যপ্রকাশ, অনন্যা, আদর্শসহ ১২টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরা স্বাক্ষর করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে, অনন্যার প্রকাশক মনিরুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, শুধুমাত্র কিছু প্রকাশক ও সংস্কৃতি উপদেষ্টার দূরদর্শিতাহীন সিদ্ধান্তের বলি হচ্ছে এবারের বইমেলা। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে উপদেষ্টা প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক গোষ্ঠীর আজ্ঞাবহ, বইমেলাকে জনপরিসর থেকে ধ্বংস করতেই এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
অন্য প্রকাশের প্রকাশক ও লেখক মাজহারুল ইসলাম বলেন, বাংলা একাডেমিও সম্ভবত অযৌক্তিক এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের চাপে, নির্বাচন পরবর্তী নতুন সরকার বইমেলা নিয়ে সুবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত নেবেন বলেও তিনি প্রত্যাশা করেন।