বিগব্যাশ লিগের দল হোবার্ট হারিকেনস এর জার্সির রং বেগুনি, যে দলের হয়ে কিছুদিন আগেই খেলে এসেছেন লেগস্পিনার রিশাদ হোসেন। অদম্য বাংলাদেশ টি-২০ কাপে যে দলের হয়ে খেলছেন রিশাদ, সেই ধূমকেতুর জার্সির রংটাও কাকতালীয়ভাবে বেগুনি! জার্সির রঙ যেমন মিলে গেল, তেমনি বিগব্যাশের ফর্মটাও ঢাকায় নিয়ে এসেছেন। দূরন্ত'র বিপক্ষে রিশাদ নিয়েছেন ২১ রানে ৩ উইকেট। তাতে আকবর আলী'র দূরন্ত অলআউট হয়েছে ১৪৩ রানে।
১২ ম্যাচ খেলে ৩১৩ রান দিয়ে ১৫ উইকেট নিয়েছিলেন রিশাদ। সেখানে সবশেষ ম্যাচেও ৩৩ রানে নিয়েছিলেন ২ উইকেট। বাংলাদেশে এসে রিশাদ অনুশীলন করেছেন ২ দিন। এরপর খেললেন ধূমকেতুর হয়ে অদম্য বাংলাদেশ টি-২০ কাপের প্রথম ম্যাচে। লেগস্পিনের বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের দূর্বলতাটা পুরানো। অন্যদিকে বিগব্যাশ লিগে খেলে আরো ধারাল হয়ে আসা রিশাদকে পড়তে এবার তাই বাড়তি সমস্যাতেই ভুগেছেন ব্যাটসম্যানরা। আজিজুল হাকিম তামিম, আরিফুল ইসলাম ও আকবর আলীর উইকেট নিয়েছেন রিশাদ। ৪ ওভারে ২১ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে রিশাদই ধূমকেতুর সেরা বোলার।
ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে এসে রিশাদ জানিয়েছেন তার বিগব্যাশের অভিজ্ঞতার কথা। এই লেগস্পিনারের কাছ থেকেই জানা গেল, তার পারফরম্যান্স বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ব্যপারে আগ্রহী করেছে অস্ট্রেলিয়ানদেরও, 'অবশ্যই। ওরা জিজ্ঞেস করছিল যে বাংলাদেশের তো অনেক ট্যালেন্টেড প্লেয়ার আছে। তো ওরা জিজ্ঞেস করে যে ওরা বাইরে খেলে না কেন। তো আমি বলতেছি যে অবশ্যই খেলবে এখন। সুযোগ আসলে অবশ্যই খেলবে। তো ওরা ওরা অনেক আগ্রহী যে যদি ওই সুযোগটা দিতে পারে আরকি।'
রিশাদ যখন অস্ট্রেলিয়াতে বিগব্যাশে খেলছিলেন, তখ
ন বাংলাদেশের ক্রিকেটে বয়ে গেছে এক সত্যিকারের 'হারিকেন', যার প্রভাবে রিশাদরা এখন বিশ্বকাপে নেই। অস্ট্রেলিয়াতে বসে এই ব্যপারগুলোর খোঁজ খবর রাখছিলেন কি না এমন প্রশ্নে বলেছেন, 'আসলে আমি আমাকে তো একটা নিয়েছে একটা কমিটমেন্টের জন্য। তো আমি ওইখানেই ফোকাস করেছি। আমি বাংলাদেশের কোন কিছু নিয়ে ফোকাস করি নি যে কি হচ্ছে। কারণ আমার আমি ওখানে গেছি একটা ওদেরকে রিপ্রেজেন্ট করার জন্য। তো আমার মনে হয় যে ওখানে ফোকাস করাটা আমার জন্য ইম্পর্টেন্ট ছিল।'
একই সময়ে বাংলাদেশেও চলছিল বিপিএল। সাধারণত দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের সময় নিজ দেশের খেলোয়াড়কে অন্য দেশের টুর্নামেন্টের জন্য কোন বোর্ডই অনাপত্তিপত্র দেয় না। রিশাদের বেলায় এই ব্যতিক্রমটা করেছে বিসিবি, যাতে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ভাল হয়। সেই বিশ্বকাপ শেষ পর্যন্ত তার খেলা হচ্ছে না, তবে শিখেছেন অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট সংস্কৃতির অনেক কিছুই, 'আসলে এগুলা তো সবাই জানে যে ওরা ডিফারেন্ট লেভেলের সবকিছুই আরকি। তো ওই ওগুলা চিন্তা করলে আমাদের তো এত কিছু হবে না। তো আমাদের যদি চিন্তা করি যে খেলার যে পরিবেশটা, আমার মনে হয় এটা ওদের চেয়ে আমাদের আরেকটু মানে ডেভেলপ করা সম্ভব আরকি। তো আমার মনে হয় এতটুকুই আপাতত। এবং যদি বলেন যে হোটেল থেকে শুরু করে সবকিছু, এটা বলা ডিফিকাল্ট। এটা এক এক টিমের এক এক রকম পরিবেশ। তো আমার মনে হয় বাংলাদেশও খারাপ না। আমার কাছে মনে হয় যে ওরা অনেক বিনয়ী। যত বড় ক্রিকেটার হোক না কেন, ওরা অনেক সাদা সরল মানে যে কাউকে আরকি আরামসে অ্যাডজাস্ট করে ফেলে আরকি। আমার কাছে এটা ভালো লাগছে যে বড় ছোট কোনো কিছু দেখে না। এটা ভালো লাগছে। তো আমি চেষ্টা করবো যে এরকম হবে থাকতে।'
সামনে আসছে পাকিস্তান সুপার লিগের নিলাম। মোস্তাফিজুর রহমান সরাসরি চুক্তিতে দল পেয়েছেন, অন্যদিকে রিশাদকে ধরে রাখেনি তার আগের দল। এইসব নিয়ে খুব একটা ভাবছেন না রিশাদ, ' আমি আসলে কোন কিছু নিয়ে অগ্রিম আশা করি না। যদি রিজিক থাকে, খেলবো। আর না থাকলে আল্লাহ যেটা রিজিক করবে, সেটাই হবে ইনশাআল্লাহ।'