রোজা শুরুর দুই সপ্তাহ বাকি। অন্য বছরগুলোতে রোজার মাস খানেক আগে থেকেই কিছু পণ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। তবে রোজা কেন্দ্রিক বাড়তি চাহিদা থাকে যেসব পণ্যে সেগুলোর ক্ষেত্রে এবারে দাম বাড়েনি, কিছু ক্ষেত্রে উল্টো কমেছে। প্রতি বছর চিনি, ছোলা ও পেঁয়াজের মতো পণ্যগুলো নিয়ে হইচই হলেও এবারে এখনো পর্যন্ত সহনীয় রয়েছে এসব পণ্যের দাম। তবে লেবু ও শসার মতো পণ্যগুলোর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম দেখা গেছে। প্রথম রোজায় লেবু শসার দাম আকাশচুম্বী হয়ে যায়। কিন্তু এবারে রোজার দিন পনের আগেই এসব পণ্যের দাম বেড়েছে।
গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজার, বাড্ডা, রামপুরা, ফার্মগেট, সেগুনবাগিচাসহ কয়েকটি খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, বাজারে বড় আকারের প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। যদিও এই লেবুর দাম সপ্তাহখানেক আগেও ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে। আর ছোট আকারের লেবুর হালি ২০ টাকা থেকে বেড়ে এখন ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে শসার দাম আরও আগেই বেড়েছে। প্রতি কেজি শসা কিনতে হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে। কোথাও কোথাও অবশ্য ৮০ টাকাতেও বিক্রি করতে দেখা গেছে।
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, শবে বরাতের দুদিন আগে থেকেই লেবুর দাম বাড়তে শুরু করে। যদিও প্রতি বছর লেবুর দাম বেড়ে যায় রোজার শুরুতে।
মেরুল বাড্ডার সবজি বিক্রেতা হাসনাত জানান, পাইকারি বাজারে হঠাৎ বাড়তি দামে লেবু বিক্রি হচ্ছে। তারা সরবরাহ ঘাটতির কথা বললেও বাজারে প্রচুর লেবু এসেছে। তবুও দাম বেশি। কেনা বেশি পড়লে আমাদেরও বেশি দামেই বিক্রি করতে হয়। আর দাম বেড়ে যাওয়ায় লেবুর বিক্রি কমে গেছে।
যদিও রোজায় সাধারণ মানুষ লেবুর শরবত খেতে পছন্দ করেন। যে কারণে ইফতারে এর চাহিদা বেড়ে যায়। কিন্তু একসঙ্গে বিশেষ এই মাসের চাহিদা জোগান দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত উৎপাদন হয় না বলে জানা গেছে কৃষি বিভাগ থেকে। যে কারণে অনেক অপরিণত লেবুও সে সময় বাজারে বিক্রি করতে দেখা যায়।
এ দুটি পণ্য ছাড়া বাকি রোজার পণ্যের দাম স্বাভাবিক রয়েছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মানভেদে ছোলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে। মাসখানেক আগে ছোলার কেজি ছিল ৯০ থেকে ১১০ টাকা। এক বছর আগে দাম আরও বেশি ছিল। গত বছরের এ সময় প্রতি কেজি ছোলা কিনতে ভোক্তার খরচ করতে হয়েছিল ১১৫ থেকে ১৩০ টাকা। প্রতি কেজি অ্যাংকর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায়। গত বছরের একই সময় এ ধরনের ডালের কেজি বিক্রি হয়েছিল ৭০ থেকে ৮৫ টাকা। বড় দানার মসুর ডালের কেজি গত বছরের এ সময় ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন কেনা যাচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। একই পরিস্থিতি রয়েছে চিনির বাজারে। এক মাস আগে চিনির কেজি ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন কেনা যাচ্ছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায়। গত বছরের এ সময় এক কেজি চিনি কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হয়েছেল ১২০ থেকে ১২৫ টাকা। পেঁয়াজের বাজারও স্বাভাবিক। মাত্রই মৌসুমের পেঁয়াজ বাজারে আসতে থাকায় দামও সহনীয়। প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
চিনি, ছোলা ও পেঁয়াজের দাম কম হলেও ভোজ্যতেলের দাম তুলনামূলক বেশি। বর্তমানে বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন তেল ১৯০ থেকে ১৯৫ এবং খোলা সয়াবিন ১৭৫ থেকে ১৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি লিটার খোলা পামওয়েল বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬২ টাকা দরে। সরকারি সংস্থা টিসিবির তথ্যমতে, এক বছরের ব্যবধানে সয়াবিন তেলের দাম তিন থেকে ১০ শতাংশ এবং পামওয়েলের দাম পাঁচ শতাংশ বেড়েছে।
ডিমের দাম আরও কমেছে। প্রতি ডজন ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১৫ টাকার মধ্যে। তবে উচ্চমূল্যে স্থিতিশীল ব্রয়লার মুরগির দাম। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ থেকে ১৮৫ টাকার মধ্যে। কয়েক সপ্তাহ ধরেই এই দামে মুরগি বিক্রি হচ্ছে। তবে বেড়েছে সোনালি মুরগির দাম। প্রতি কেজি সোনালী মুরগির দাম শবেবরাতের আগে ২৮০-২৯০ টাকা বেড়ে এখন ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া গরুর মাংসের কেজি পাওয়া যাচ্ছে ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকায়।
তবে রোজা পর্যন্ত নিত্যপণ্যের বাজারে এই স্বাভাবিক পরিস্থিতি থাকবে কি না তা নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে খানিকটা সন্দেহ রয়েছে। ক্রেতাদের দাবি, রোজার মাসে বাজারে জিনিসপত্রের দাম স্বাভাবিক রাখতে সরকারের তদারকি ব্যবস্থা আগে থেকেই জোরদার করতে হবে।