বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারে স্বাস্থ্যসেবা–সংক্রান্ত অঙ্গীকার বাস্তবায়িত হলে দেশে একটি আধুনিক ও সর্বজনীন চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে উঠবে—এমন আশাবাদ জানিয়েছে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)। সংগঠনটির মতে, এই পরিকল্পনা কার্যকর হলে রাষ্ট্রের একজন এলিট নাগরিক যেমন মানের স্বাস্থ্যসেবা পাবেন, তেমনি সমাজের প্রান্তিক মানুষেরাও সরকারিভাবে একই মানের চিকিৎসাসুবিধা লাভ করবেন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এক যৌথ বিবৃতিতে ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ ও মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল বিএনপির ইশতেহারকে স্বাগত জানিয়ে এসব কথা বলেন। একই দিন বিকেলে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।
বিবৃতিতে ড্যাবের শীর্ষ দুই নেতা ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরেন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৯টি প্রধান প্রতিশ্রুতির মধ্যে ২ নম্বর প্রতিশ্রুতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, ‘দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশব্যাপী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে। জেলা ও মহানগর পর্যায়ে মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবাসহ রোগ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
পাশাপাশি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের দ্বিতীয় অধ্যায়ের ১৯ নম্বর পৃষ্ঠায় ‘স্বাস্থ্য সেবা’ শিরোনামের অধীনে বলা হয়েছে, ‘স্বাস্থ্য কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতির আলোকে আমাদের লক্ষ্য হলো সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা (ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ) নিশ্চিত করা এবং প্রত্যেক নাগরিককে মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা।’
ইশতেহারে স্বাস্থ্যখাতের সার্বিক উন্নয়নে একাধিক সুদূরপ্রসারী কর্মপরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—স্বাস্থ্যখাতে জিডিপির পাঁচ শতাংশ বরাদ্দ, ই-হেলথ কার্ড চালু, বিনামূল্যে মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, প্রতিটি জেলায় আধুনিক সেকেন্ডারি স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপন, এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, দুর্নীতিমুক্ত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং প্রাণঘাতী রোগের চিকিৎসায় পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ শক্তিশালী করা।
এর বাইরে ইশতেহারে ওষুধ ও ভ্যাকসিন সরবরাহ নেটওয়ার্কের উন্নয়ন, মহামারী ও মশাবাহিত রোগ নির্মূল, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও পুষ্টি বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স পুল ও জরুরি সেবা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, স্বাস্থ্যখাতে অটোমেশন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক জাতীয় ই-প্রেসক্রিপশন ও প্রেসক্রিপশন অডিট চালু করার বিষয়গুলো বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে। পাশাপাশি মেডিকেল শিক্ষার মানোন্নয়ন, স্বাস্থ্যকর্মীদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও পেশাগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্যখাতে সহিংসতা রোধ, মেডিকেল বর্জ্যের নিরাপদ ব্যবস্থাপনা, সমন্বিত ও আধুনিক পুষ্টি কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং তামাক ব্যবহারজনিত অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণের কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
সবশেষে ড্যাব নেতৃদ্বয় আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, ঘোষিত ইশতেহারে স্বাস্থ্যখাতসংক্রান্ত এসব পরিকল্পনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের চিকিৎসাব্যবস্থা আরও আধুনিক, মানবিক ও জনবান্ধব রূপ পাবে। একই সঙ্গে দেশের সব শ্রেণি ও পেশার মানুষ সমানভাবে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ অর্জন করবে।