দায়িত্ব পেলে ৫ বছরে দেশের চেহারা পাল্টে দেব: জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘ভোটে বিজয়ী হয়ে আমরা দায়িত্ব পেলে পাঁচ বছরে দেশের চেহারা পাল্টে দেব। তরুণ প্রজন্ম ও মা-বোনদের স্বপ্নের যে নতুন বাংলাদেশ তা গড়ে তুলব।’

তিনি বলেন, গত ৫৪ বছর ধরে দেশে জুলুমের রাজনীতি চলছে। সবচেয়ে বেশি জুলুমের শিকার হয়েছে জামায়াত ইসলামী। তবে দল হিসেবে জামায়াত কোনো জালিমের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেবে না। এটা আমরা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরপরই বলে দিয়েছিলাম। আমাদের নেতাকর্মীরা কথা রেখেছেন। দল হিসেবে আমরা কোনো প্রতিশোধ নেইনি, মামলা বাণিজ্য করিনি। কিন্তু অনেকে মামলা বাণিজ্য করেছে।’

জামায়াত আমির শনিবার বিকালে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম।

জনসভায় সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন জামায়াত আমির। সভায় প্রার্থী ও তাদের অনুসারীসহ বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। মাদ্রাসা মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। বিশাল এই জনসভায় জামায়াত আমির তার ১৮ মিনিটের বক্তব্যে বলেন, সিলেট খনিজ সম্পদে ভরপুর। অথচ সিলেট উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত, ন্যায্য হিস্যা পাচ্ছে না সিলেটবাসী। গ্যাস-বিদ্যুৎ থেকে অনেকে বঞ্চিত। আমরা দায়িত্ব পেলে এই বঞ্চনার অবসান ঘটাবো।’ তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজি, ঘুষ, দুর্নীতি বন্ধ হবে। অফিস-আদালতে কেউ ঘুষ নেওয়ার সাহস করতে পারবে না, সেই সুযোগও পাবে না।’     

ডা. শফিকুর রহমান দেশের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে বলেন, ৫৪ বছর ধরে দেশের টাকা লুট হয়েছে। কেউ ফেরেশতা ছিলেন না। সবাই চুরি করেছেন, কেউ কম আর কেউ বেশি। আমরা দায়িত্ব পেলে যারা জনগণের টাকা লুট করেছে তাদের পেটের ভেতর থেকে লুটের টাকা বের করে আনবো। দুর্নীতি, চুরি বন্ধ করে দেশের উন্নয়ন করবো।’    

নিজের এক্স অ্যাকাউন্টের একটি পোস্ট নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, একটি দল মা-বোনদের সম্মান দিতে জানে না। আমি এর প্রতিবাদ করেছি, এজন্য তারা আমার দিকে মিসাইল ছুড়েছে। আমার অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে মা-বোনদের নিয়ে অপমানজনক পোস্ট দিয়েছে। যে চুর এটা করেছে সে ধরা পড়েছে। এখন তারা কী বলবে, কিন্তু এখনো তারা চুরের পক্ষ নিয়েই কথা বলছে। আমি তাদের মাফ করে দিয়েছি, এটা নিয়ে আমি আর কথা বলবো না।’ 

প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দর অনেকটা নামেই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট এখানে নামে না। আমরা সুযোগ পেলে নামে নয়, এটাকে সত্যিকারের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর করবো। তিনি বলেন, প্রবাসে গিয়ে যারা কষ্ট করে রেমিটেন্স প্রেরণ করে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করছেন, তাদেরকে আমরা মুখেই কেবল রেমিটেন্স যোদ্ধা বলি, অথচ বাস্তবে তারা অনেক সমস্যার মুখোমুখি। মধ্যপ্রাচ্যে একজন প্রবাসী মারা গেলে তার লাশটি পর্যন্ত দেশে আনা নিয়ে ঠেলাঠেলি চলে। আমরা প্রবাসীদের সকল সমস্যার সমাধান করবো।’ 

তিনি বলেন, আমরা কৃষকদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও উপকরণ দেবো। যাতে তারা বেশি করে উৎপাদন করতে পারেন। কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্যের বাজার নিশ্চিত করবো। জাল যার জলা তার এই নীতিতে চলবে জলমহাল। চা শ্রমিকদের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসার দায়িত্ব নেবে রাষ্ট্র। রাষ্ট্রের কোনো নাগরিকই তার অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকবেন না।’

জনসভায় জনতার প্রতি আকুতি জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমি এই সিলেটের সন্তান। আজ জামায়াতের আমির হিসেবে নয়, আপনাদের একজন হিসেবে এখানে দাঁড়িয়েছি। আমাদের একবার সুযোগ দিন, আমরা দেশের মালিক হবো না, আপনাদের চৌকিদার হিসেবে কাজ করবো। যার যা মর্যাদা তা নিশ্চিত করবো।’

সিলেট জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও সিলেটের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।