ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২

হুমকি পাওয়ার অভিযোগে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন জাপা প্রার্থী জিয়াউল

নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর উপজেলার ২ ইউনিয়ন) আসনের জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. জিয়াউল হক মৃধা।

রবিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এ ঘোষণা দেন।

বিজ্ঞপ্তিতে জিয়াউল হক মৃধা বলেন, গত ৫ আগস্ট ২০২৪ পরবর্তী সময়ে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য ও প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে আমাকে তিনটি মামলায় আসামি করে নিজ এলাকা থেকে বিতাড়িত করা হয়। যদিও ঐসকল মামলার ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো প্রকার সম্পৃক্ততা ছিল না। এমনকি মামলায় উল্লিখিত সময়ে আমি সংসদ সদস্য পদেও অধিষ্ঠিত ছিলাম না।

জাপার মনোনীত প্রার্থী আরও বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমাকে আমার দল জাতীয় পার্টি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিলে আমার আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে সশরীরে উপস্থিত হয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করা সম্ভব হয়নি। আমার পক্ষে জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে জিয়াউল হক বলেন, আমার প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হলে আমাকে ও আমার নেতাকর্মীদেরকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিভিন্ন মহল থেকে ভয়-ভীতি ও গ্রেপ্তারের হুমকি প্রদর্শন শুরু করে, যা অদ্যাবধি চলমান। যার ফলে আমি অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মতো সম্পূর্ণ স্বাধীন ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারছি না। এমন প্রতিকূল পরিবেশে আমি আমার দলের সকল নেতাকর্মীর সিদ্ধান্তক্রমে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর মতো কঠিন সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি।

এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে জিয়াউল হক মৃধা বলেন, ‘আমার আবেগপ্রবণ ভোটার, শুভাকাঙ্ক্ষী, আত্মীয়-স্বজন ও নেতা-কর্মীদের আমার পাশে থাকার জন্যে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমার নির্বাচনী এলাকার সকলের নিরাপত্তা, সুস্বাস্থ্য ও শান্তি কামনা করছি। সকলের নিকট আমার জন্য দোয়া ও আশীর্বাদ প্রার্থনা করছি।

প্রসঙ্গত, জিয়াউল হক মৃধা ২০০৮ সালে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে প্রথম এমপি নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে আবারও মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে এমপি নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে এবং ২০২৪ সালে নির্বাচন করলেও জয়ী হতে পারেননি।