দেশে পুরাতন ভুত ফেরার পাঁয়তারা চালাচ্ছে: মামুনুল হক

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমিরে মজলিস মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, দেশের রাজনীতিতে এক সময় সন্ত্রাস, গুন্ডামি, লুটপাট, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির ভূত ছিল। সেই পুরাতন ভুত বা চক্র আবারও ক্ষমতায় ফেরার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। গতকাল ডুমুরিয়া উপজেলার স্বাধীনতা চত্ত্বরে ১১ দলীয় নির্বাচনি জোট আয়োজিত নির্বাচনি জনসভা এ কথা বলেন তিনি।

মাওলানা মামুনুল হক বলেন, দেশের কৃষক, শ্রমিক, দিনমজুর, শিল্পোদ্যোক্তা ও প্রবাসীদের সম্মিলিত পরিশ্রমে অর্থনীতির চাকা সচল থাকলেও দুর্নীতিবাজ রাজনীতিকদের কারণে কাঙ্খিত উন্নয়ন হচ্ছে না।

উপমা টেনে তিনি বলেন, পাঁচ ভাই-বোন সারাদিন পরিশ্রম করে যা আয় করে, রাতের অন্ধকারে একজন সব লুট করে নেয়, তাহলে সেই সংসারে কখনও স্বাচ্ছন্দ্য আসতে পারে না। আজ বাংলাদেশে অবস্থা একই।

মামুনুল হক বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোয় গুণগত পরিবর্তন হয়নি। তার ভাষায়, আগে বিদেশি শাসকরা এদেশের সম্পদ লুটে নিজেদের দেশে নিয়ে যেত, এখন দেশীয় শাসকরা সেই সম্পদ বিদেশে পাচার করে। বছরে কোটি কোটি, লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের মানুষ আর দুর্নীতিবাজ ও লুটেরা গোষ্ঠীকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। এ প্রেক্ষাপটে ১১টি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত নির্বাচনী ঐক্যের পক্ষে ভোট চান তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। জনসভায় তিনি জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ারের হাতে ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দেওয়ার আহ্বান জানান।

মামুনুল হক তার বক্তব্যে স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতার সমালোচনা করে বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হলেও জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। শাসকের চেহারা, ধর্ম, জাত বদলেছে; কিন্তু শোষণের চরিত্র বদলায়নি।

গত কয়েক বছরে সংঘটিত আন্দোলন-সংগ্রামের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিবর্তনের আকাঙ্কা স্পষ্ট হয়েছে। হাজারো মানুষ প্রাণ দিয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছে; শুধু একটি ন্যায্য অধিকারভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আশায়। আগামী নির্বাচন দেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করবে। দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও লুটপাটের অবসান ঘটবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

খেলাফত মজলিসের ডুমুরিয়া উপজেলা সভাপতি মুফতি আব্দুল কাইউম জোয়াদ্দারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, মসজিদ মিশনের সেক্রেটারি মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসের  শূরা সদস্য ও খুলনা জেলা আমির মাওলানা এমরান হুসাইন, ডাকসুর নির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা, খুলনা জেলা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সভাপতি হাফেজ মাওলানা সাইদুর রহমান, জেলা নির্বাহী সদস্য মাওলানা শরিফুল ইসলাম, ডুমুরিয়া উপজেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুর রহমান, ডুমুরিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুখতার হোসাইন ও ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতি ডা. হরিদাস মন্ডল প্রমুখ।