দ্রুত বকেয়া শোধের তাগাদা দিয়ে আদানির চিঠি

কয়লার বাড়তি দাম ধরে বিল করা নিয়ে আদানির সঙ্গে পিডিবির বিরোধ বেশ পুরনো। তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের কাছে রয়েছে নানান অনিয়ম দুর্নীতির শক্ত প্রমাণ। এ নিয়ে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতির মধ্যেই বকেয়া বিল দ্রুত পরিশোধের তাগাদা দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছে আদানি। বকেয়া শোধ না হলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে হুঁশিয়ার করেছে ভারতীয় কোম্পানিটি।

বকেয়ার কারণে একাধিকবার বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। এর আগে বকেয়া শোধে গত বছর ১০ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে পিডিবিকে চিঠি দিয়েছিল আদানি। না হলে ১১ নভেম্বর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেবে বলে হুমকি দেয় তারা। এরপর ওই মাসেই আদানিকে ১০ কোটি ডলার শোধ করা হয়। এরপর ডিসেম্বর থেকে আবার বকেয়া বাড়তে শুরু করেছে।

সর্বশেষ আদানি পাওয়ার লিমিটেডের ভাইস প্রেসিডেন্ট অবিনাশ অনুরাগ গত ২৯ জানুয়ারি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি দিয়েছেন। চুক্তির বরাত দিয়ে এতে বলা হয়, তাদের পাওনা ৫৭ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রতি ডলারে ১২২ টাকা ধরে যা ৬ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা)। এর মধ্যে ৩০ কোটি ডলারের বকেয়া নিয়ে পিডিবির সঙ্গে কোনো বিরোধ নেই।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিয়মিত কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে তাৎক্ষণিকভাবে ১১ কোটি ২৭ লাখ ডলার পরিশোধের অনুরোধ জানানো হয়েছে আদানির চিঠিতে। এতে বলা হয়, এর মধ্যে দেরিতে বিল পরিশোধের সারচার্জ আছে ৫ কোটি ৩২ লাখ ডলার। গত বছরের জুন পর্যন্ত হিসাবে এ পাওনা আদানির। আর ৫ কোটি ৯৬ লাখ ডলার হলো অক্টোবর মাসে সরবরাহ করা বিদ্যুৎ বিল। একাধিকবার তাগাদা দেওয়ার পরও গত মাসে মাত্র ৩ কোটি ৯২ লাখ ডলার পরিশোধ করেছে পিডিবি।

আদানি বলছে, বকেয়া বাড়তে থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ধরে রাখতে নানা ধরনের চাপ তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে কয়লা আমদানি, সরবরাহকারীদের বিল পরিশোধ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যা দেখা দিচ্ছে। তাই পুরো বকেয়া শোধে একটি সুস্পষ্ট সময়সূচি দিতে অনুরোধ করা হয়েছে বাংলাদেশ সরকারকে।