নির্বাচনকে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, দেশের বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের একটি অংশ একপেশে ভূমিকা পালন করছে, যার ফলে নির্বাচন পরিবেশ দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। বিশেষ করে, নারী কর্মী ও ভোটারদের ওপর হামলা, হুমকি এবং হয়রানির ঘটনায় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি করেছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি।
গতকাল রবিবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার এবং মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট আহসান মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় জামায়াতের নির্বাচনী অফিসে পুলিশি অভিযান, নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং সন্ত্রাসী কর্মকা- চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
তার অভিযোগ অনুযায়ী, ঢাকা-১৫ আসনসহ পটুয়াখালীর বাউফল ও পাবনার বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনের ভূমিকা স্পষ্টভাবে পক্ষপাতদুষ্ট। বাউফলে জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী এলাকায় একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটলেও সংশ্লিষ্ট থানার ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। এমনকি অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, নারী কর্মী ও ভোটারদের ওপর বারবার হামলা এবং হেনস্তার ঘটনা ঘটছে, অথচ প্রশাসন তা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে। এতে নারী ভোটারদের মধ্যে ভীতি তৈরি হচ্ছে এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির পক্ষ থেকে বিভিন্ন কাল্পনিক অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে যে, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে লাখ লাখ বোরকা বানানো হচ্ছে। এসব অভিযোগের কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। উদ্দেশ্য হলো, হিজাবি ও পর্দানশিন নারীদের মধ্যে ভীতি এবং সংশয় তৈরি করা, যাতে তারা ভোটকেন্দ্রে যেতে না পারেন। আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলেছি, দেশের অর্ধেক ভোটার নারী। নারীদের নিরাপত্তা, সম্ভ্রম ও মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। অথচ একটি দল পরিকল্পিতভাবে নারীদের ভয় দেখাচ্ছে।’
১১টি নারী সংগঠন ডা. শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ এনে তার প্রার্থিতা বাতিল ও নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে। এ বিষয়ে তাদের অবস্থান জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সবসময় নারীদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করে চলে।