১৮ বছর পর দেশের উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার খ্যাত বগুড়ায় নির্বাচনী উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। নানা প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের দুয়ারে। বগুড়ার ১২টি উপজেলা ও ১২টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত সংসদীয় ৭টি আসনে মোট ৩৪ জন প্রার্থীর মধ্যে নারী প্রার্থীও রয়েছেন। বরাবরের মতোই হেভিওয়েট প্রার্থী রয়েছেন বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।
বিএনপির শক্ত ঘাঁটিখ্যাত বগুড়ার ৭টি সংসদীয় আসনে নিজেদের শক্ত অবস্থান জানান দিচ্ছেন জামায়াতের প্রার্থীরা, জয়ের বিষয়ে বিএনপিকে চ্যালেঞ্জও জানাতে চায়।
বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি-সোনাতলা) : এই আসনে মোট প্রার্থী ৫ জন। ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য সাবেক এমপি কাজী রফিকুল ইসলাম, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দিন, ডাব প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশ কংগ্রেসের আসাদুল হক, উদীয়মান সূর্য প্রতীক নিয়ে গণফোরামের জুলফিকার আলী, হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এবিএম মোস্তফা কামাল পাশা। বিএনপির ঘাঁটিখ্যাত এই আসনে ধানের শীষের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দিতা হবে দাঁড়িপাল্লার।
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) : এই আসনে হেভিওয়েট হিসেবে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না কেটলি প্রতীক নিয়ে ভোট করছেন। এই আসনে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করছেন বিএনপির মীর শাহে আলম। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সাবেক এমপি আবুল আজাদ মোহাম্মদ শাহাদুজ্জামান। এই আসনেও ধানের শীষের সঙ্গে দাঁড়িপাল্লার প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে জানা গেছে।
বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) : এ আসনে ধানের শীষ প্রতীক বিএনপির আব্দুল মুহিত তালুকদার, জাতীয় পার্টির শাহিনুল ইসলাম লাঙ্গল প্রতীক, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতে ইসলামীর নূর মোহাম্মদ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শাহজাহান আলী তালুকদার হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন। ভোটাররা মনে করছেন এই আসনে ধানের শীষের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে দাঁড়িপাল্লা।
বগুড়া-৪ (নন্দীগ্রাম-কাহালু): এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি মোশারফ হোসেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতে ইসলামীর মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির শাহীন মোস্তফা কামাল, হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহা. ইদ্রিস আলী মাঠে রয়েছেন। এই আসনে একসময় জামায়াতের শক্ত অবস্থান ছিল এবং এই আসনে তারা আবারও জয় পাবেন বলে মনে করছেন।
বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) : এখানে ধানের শীষের প্রতীকে বিএনপির গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতে ইসলামীর দবিবুর রহমান, কাস্তে প্রতীকে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির শিপন কুমার রবিদাস ও হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলনের মীর মো. মাহমুদুর রহমান। এখানেও ধানের শীষের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দাঁড়িপাল্লার।
বগুড়া-৬ (সদর) : বগুড়ার সবচেয়ে আলোচিত আসন এটি। এ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জামায়াতে ইসলামীর আবিদুর রহমান সোহেল, তারা প্রতীকে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) আব্দুল্লাহ আল ওয়াকি, হাতপাখা প্রতীকে ইসলামী আন্দোলনের আবু নুমান মো. মামুনুর রশিদ ও মই প্রতীকে বাসদ মনোনীত প্রার্থী দিলরুবা নূরী, বগুড়ার সাতটি আসনের মধ্যে তিনিই একমাত্র নারী প্রার্থী।
দীর্ঘদিন ধরে এই আসনটি বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
বগুড়া-৭ (গাবতলী-শাজাহানপুর) : এই আসনে বিএনপি নেতা মোরশেদ মিলটন ধানের শীষ, জামায়াতে ইসলামীর গোলাম রব্বানী দাঁড়িপাল্লা এবং ইসলামী আন্দোলনের মো. শফিকুল ইসলাম হাতপাখা প্রতীক নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের বাড়ি গাবতলী উপজেলায় হওয়ায় আসনটিতে বরাবর প্রার্থী হয়ে আসছেন প্রয়াত খালেদা জিয়া। বগুড়ার এই আসনেও ধানের শীষের সঙ্গে লড়াই হবে দাঁড়িপাল্লার।
বগুড়া জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমান জানান, বগুড়ায় সাতটি সংসদীয় আসনে প্রার্থীরা নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন। ভোট গ্রহণের সার্বিক প্রস্তুতি প্রায় শেষ করা হয়েছে।