ভারতকে নাহিদ ইসলাম

‘আওয়ামী লীগের চশমায় বাংলাদেশকে দেখবেন না’

ভারতকে আওয়ামী লীগের চশমায় বা তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে বাংলাদেশ না দেখার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, দিল্লির উচিত নির্দিষ্ট কোনো দলের ওপর নির্ভর না করে বাংলাদেশের সব প্রধান রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা।

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘স্ট্র্যাটনিউজ গ্লোবাল’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর মেরুল বাড্ডা এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি এই সাক্ষাৎকার দেন। নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ (বাড্ডা-ভাটারা) আসন থেকে ‘শাপলা কলি’ প্রতীক নিয়ে আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সাক্ষাৎকারে ভারতের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ভারত সবসময় বাংলাদেশের ওপর আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করেছে। তারা আওয়ামী লীগকে সহযোগিতা করার মাধ্যমে দেশে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করেছিল। ভারত এখনো এমন একজনের পক্ষ নিচ্ছে, যিনি বাংলাদেশে হত্যাকাণ্ড ও গণহত্যার দায়ে দণ্ডিত।

তিনি আরও বলেন, আমরা ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই, তবে তা হতে হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে। এখন বল ভারতের কোর্টে। তাদের উচিত বাংলাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক নীতি পরিবর্তন করা। ভারতকে অবশ্যই আওয়ামী লীগের চোখ দিয়ে বাংলাদেশ দেখা বন্ধ করতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের অন্যতম নেতৃত্বদানকারী নাহিদ ইসলাম শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে তথ্য ও সম্প্রচার এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তিনি জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি এক জনসভায় জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান তাকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানান।

নির্বাচনী প্রচারণায় নাহিদ ইসলাম এলাকাকে ‘ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট’ মুক্ত করা এবং জাতীয় পর্যায়ে সংস্কারের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি রোধ করার অঙ্গীকার করেন। তিনি জানান, তাদের মূল লক্ষ্য হলো গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কারের মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচন ও ‘জুলাই চার্টার’ গণভোটকে দেশের জন্য ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে অভিহিত করেন নাহিদ। তিনি সতর্ক করে বলেন, গণভোটে ‘না’ জয়ী হলে তা জুলাই অভ্যুত্থানের ব্যর্থতা হিসেবে গণ্য হবে এবং পুরনো ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা টিকে থাকবে। এই চার্টারে মূলত দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।