জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম ১৬ বাঁশখালী আসনে ১১ দলীয় জোট তথা জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলামের সমর্থনে এক জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বাঁশখালী আর্দশ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। জনসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এর চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম।
বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা সাতকানিয়া ও লোহাগড়া আসনের প্রার্থী ও সাবেক এমপি আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুফতি হারুন বিন ইজহার। প্রধান বক্তা ছিলেন বাঁশখালী আসনে ১১ দলীয় জোট তথা জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম। বাঁশখালী উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইসমাইল এর সভাপতিত্বে দক্ষিণ জেলা জামায়াতের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি এডভোকেট মো. আবু নাছেরের সঞ্চালনায় হযরত মাওলানা আল্লামা ইসহাক হুজর, মাওলানা শাহ আবদুর রহমান, মাওলানা মীম ছিদ্দিক ফারুকী, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের আমীর নজরুল ইসলাম, দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ বদরুল হক, দক্ষিণ জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা মাহাবুবুর রহমান হানিফ, শ্রমিক কল্যাণ কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক, চট্টগ্রাম জামায়াতের সাবেক আমীর অধ্যাপক জাফর সাদেক সহ ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম বলেন, আমি বাঁশখালীতে ৯১ এর ঘূর্ণিঝড় এর পর থেকে বিগত দিনে অনেক মিটিং করেছি, কিন্তু আজকের মত এত বড় মিটিং করিনি। তিনি বলেন, বিগত দিনেসারাদেশে চাঁদাবাজরা রাজত্ব করেছে, ব্যাংকের টাকা লুট করেছে তারা মন্ত্রী এমপি হয়েছে। তাদের এসব অপকর্মের কারণে আমি বিএনপি ছাড়তে বাধ্য হয়েছি উল্লেখ করে বলেন, যারা চাঁদাবাজি করে, ব্যাংক লুট করে ও বিদেশীদের দালালি করে তাদের ভোট দেবেন না। আগামীতে আর কোন দুর্নীতিবাজ যাতে ক্ষমতায় আসতে না পারে তার জন্য সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান। দেশে শান্তি, সবার সমান অধিকার, ধনী গরীব সবার সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা জহিরুল ইসলামকে ভোট দেওয়ার আহবান জানান তিনি।
তিনি বলেন ১১দলীয় জোট ক্ষমতায় এলে দেশকে ঢেলে সাজানো হবে ,সবার চাকুরি নিশ্চিত করা, শিল্প কারখানা স্থাপন, মায়ের জাতিকে সর্বোচ্চ সন্মান নিশ্চিত সহ সবার উপরে মা দের স্থান দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দুর্নীতিবাজরা যাতে দেশ না চালাতে পারে তাহলে জহিরুল ইসলামকে বিজয়ী করতে হবে আমানত কেয়ামত করা যাবে না। সঠিক ব্যক্তিকে নির্বাচিত করতে সবার সহযোগিতা ও তালি মারতে বলেন। বেঈমান মুনাফেক ভোট দেবেন না, তালি জোরে মারেন, আওয়াজের জোরে যেনো শয়তান শুনতে পায়।
বিশেষ অতিথি জামায়াতের নেতা সাতকানিয়া ও লোহাগড়া আসনের প্রার্থী ও সাবেক এমপি আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী বলেন, যেখানে জামায়াত ইসলাম, সেখানে বীর মুক্তিযোদ্ধা, রতনে রতন ছিলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা নাকি মদিনার ইসলাম না, আমরা মক্কার ইসলাম। মক্কার ইসলামকে বাদ দিয়ে ইসলাম হবে না। বাংলাদেশে সেরা বাঁশখালীর মানুষ। এখানে অনেক জ্ঞানী গুণী ও রাজনৈতিক নেতাদের জন্ম। সাতকানিয়ার মানুষ বাঁশখালীর দিকে মাথা রেখে ঘুমায়। ৫৪ বছর পর ২৪ শে জুলাই হলো জামায়াতের কেরামতি। যেদিন জামায়াতকে নিষিদ্ধ করেছে, সেদিন থেকে আওয়ামীলীগের বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে। ৫ আগস্ট তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে হাসিনাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে।
প্রধান বক্তা বাঁশখালী আসনে ১১ দলীয় জোট তথা জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম বলেন, আগামী সংসদ সদস্য হিসাবে বিজয়ী হতে আধুনিক পর্যটন সমৃদ্ধ বাঁশখালী গড়তে দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাওয়া সহ দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজদের লাল কার্ড দেখানোর আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, বাঁশখালীতে বিশ্ববিদ্যালয়, স্টেডিয়াম, বাস টার্মিনাল, সমুদ্র সৈকত, ইকোপার্ক এর উন্নয়নে বৃহৎ পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন।