বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসাবে ঢাকা-৪ (শ্যামপুর-কদমতলী) আসনের অন্তর্গত জুরাইন এলাকায় পথসভায় অংশগ্রহণ করবেন। তার আগমনকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা কর্মসূচিকে ঘিরে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে।
আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকালে জুরাইন রেলগেট সংলগ্ন জুরাইন দয়াগঞ্জ লিংক রোডে এক পথসভায় বক্তব্য প্রদান করবেন বলে জানান ঢাকা-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তানভীর আহমেদ রবিন।
রবিন বলেন, জুরাইন কদমতলী এলাকাবাসীকে কথা দিয়েছিলাম বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাদের এলাকায় আসবেন এবং এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুঃখ দুর্দশার কথা শুনবেন। আজ সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। তারেক রহমান আসবেন। মানুষের কথা শুনবেন এবং আগামীতে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি আমাদের দাবিগুলো পূরণ করবেন।
তিনি বলেন, এই এলাকায় বিনাভোটে নির্বাচিত যে নেতারা ছিলেন তারা কেউ এই এলাকার সন্তান ছিল না ফলে তারা আমাদের দরদ বুঝত না। তাদের কোন বাড়িঘর এখানে ছিলনা। তারা আমাদের কোন উপকারে আসতো না।
বহিরাগত গুন্ডাপান্ডা এনে এলাকা পরিচালনা করেছেন। বিভিন্ন বড় বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে গুটিকয়েক ক্ষমতাধর ব্যক্তি।
ফরিদাবাদকে খাস মহল ঘোষণার জন্য ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার ভাতিজা তাপস দায়ী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১৩-এ হঠাৎ করেই এই এলাকাকে খাসমহল ঘোষণা করেছে। এর ফলে এই এলাকায় নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়। আমাদের এলাকার মানুষের মধ্যে বন্ধন নষ্ট হয়েছে। সন্তান তার বাবার সম্পদের সঠিক হিসাব পায়নি। আরও কত সমস্যা।
তিনি বলেন, আমাদের ৯০ ভাগ এলাকা এখনো ল্যাম্পপোস্টের আওতায় আসেনি, সুপেয় পানির ব্যবস্থা নাই, খেলার মাঠ নাই, সরকারি হাসপাতাল নাই, গ্যাস বিল দিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে রান্না করছি, বিদ্যুৎ না থাকলে কিনতে হচ্ছে এল পি জি। আমাদের নাই মানে কিছুই নাই। সবধরনের নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত এই এলাকায় বিগত ১৮ বছরে কোন উন্নয়নই হয়নি। আপনারা হিসাব করবেন বিএনপি আমলে এই এলাকায় কতগুলো ইন্ডাস্ট্রি চালু ছিল আর দীর্ঘ ১৮ বছর পরে কতগুলো চালু আছে। তিনি বলেন, আমাদের মা বোনেরা সবসময় দুই তিনটা সমস্যায় পড়ে তার মধ্যে অন্যতম তীব্র গ্যাস সমস্যা ও পানি সমস্যা। আমাদের তিনভাবে গ্যাসের সমস্যা সমাধান করতে হয়। এক আমরা গ্যাস বিল দেই, আবার বিদ্যুৎ দিয়ে রান্না করে, বিদ্যুৎ না থাকলে আবার এলপিজি দিয়ে রান্না করতে হয়।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে জুরাইন ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। সকাল থেকেই জনসমুদ্র পরিণত হয় জুরাইন দয়াগঞ্জ লিংক রোড এবং এর আশপাশের এলাকা।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলেন, তারেক রহমানের আগমন শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি নেতাকর্মীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তার বক্তব্য ও দিকনির্দেশনা দলীয় কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের মাঝেও দলের অবস্থান তুলে ধরার একটি সুযোগ তৈরি হবে।
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ, বিজিবি, আনসার এর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল ও যুবদলের সদস্যদের সমন্বয়ে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। তারা কর্মসূচির সময় সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও জনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করবে বলে জানান আয়োজকরা। এছাড়া অতিথি ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে বিভিন্ন প্রবেশপথে স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা হবে।