ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানাতে ইসিতে গেছে জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল তিনটায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা নির্বাচন কমিশনে যান। বিষয়টি নিশ্চিত করেন, জামায়াত আমিরের ব্যক্তিগত সচিব মো. নজরুল ইসলাম।
এর আগে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, এটা মোটেও সঠিক সিদ্ধান্ত না। এর মাধ্যমে কোনও গোষ্ঠীকে বিশেষ কোনও সুবিধা দেওয়ার পায়তারা চলছে কিনা, এটা আমরা মনে করি। মানুষের নিরাপত্তার জন্যও সঙ্গে ফোন থাকা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, আর মোবাইল ফোনটা মানুষ কোথায় রাখবে? এটা মোটেও গ্রহণযোগ্য না। অবিলম্বে এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা উচিত।
এনসিপির পক্ষ থেকে দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও ১১ দলের হয়ে ইসিতে গেছেন। তাদের দলের নেতাকর্মীদের মতে, বুথের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যাবে না, এমনটা হলেও মানা যেত। কিন্তু ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল নিষিদ্ধ করার কোন যুক্তি নেই। তার মানে সবাই বাড়িতে মোবাইল রেখে ভোটকেন্দ্রে যাবে? এটা কেমন কথা।
তারা বলছেন, সরকারি লোকজন ছাড়া কেউ মোবাইল রাখতে পারবে না, এটা এবসার্ড। ভোটকেন্দ্রে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার ডকুমেন্টেশন হবে কী করে? ভোটারের মোবাইলে ধারণকৃত ছবি বা ভিডিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এই সুযোগ বন্ধ করার চেষ্টা অহেতুক।
উল্লেখ্য, ইসির বিজ্ঞপ্তিতে ভোটের দিন এ নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ইসির জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত নির্দেশনাটি ছড়িয়ে পড়ে।
এতে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে সাধারণ ভোটারদের জন্য মোবাইল ফোন বহন নিষিদ্ধ থাকবে। তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার, ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পুলিশ ইনচার্জ, দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার এবং ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহারকারী দুজন আনসার সদস্য মোবাইল ফোন রাখতে পারবেন বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।