বোরকা-নিকাবেই হতে পারে জাল ভোট, শঙ্কা বিএনপির

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বোরকা ও নিকাব ব্যবহার করে জাল ভোট দেওয়ার অপচেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিএনপি। দলটি বলছে, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল ইসলামি পোশাকের অপব্যবহার করে নির্বাচনে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এ অবস্থায় নারী ভোটারদের পরিচয় নিশ্চিত করতে প্রতিটি কেন্দ্রে নারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা বা এজেন্টের মাধ্যমে মুখমণ্ডল যাচাই করার জোরালো দাবি জানিয়েছে দলটি।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, আমরা বিভিন্ন সূত্রে জানতে পেরেছি, দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিপুল পরিমাণ বোরকা ও নিকাব বানানো হচ্ছে। বিএনপি একটি ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসী দল হিসেবে নারীর আব্রু ও পর্দার প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাশীল। বোরকা ও নিকাব আমাদের ধর্মীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু দুঃখজনক হলো, এই পবিত্র পোশাককে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী যদি মিথ্যা পরিচয়ে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে তা হবে চরম অনৈতিক।

নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সন্দেহজনক ভোটারের পরিচয় নিশ্চিত করা জরুরি। এনআইডি কার্ড বা পাসপোর্টের ছবি তোলার সময় যেভাবে মুখমণ্ডল অনাবৃত করা হয়, ঠিক সেভাবেই নারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা বা নারী চ্যালেঞ্জকারী এজেন্টের উপস্থিতিতে ভোটারের পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে। আমরা পর্দার মর্যাদা রক্ষা করেই স্বচ্ছ ভোট নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।

বোরকা ইস্যুর পাশাপাশি মাহদী আমিন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ না করে কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, যারা একসময় স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, তারা এখন রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য ধর্মের অপব্যাখ্যা দিচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা দেখছি একটি দল জান্নাতের টিকিট বিক্রির প্রলোভন দিয়ে এবং ধর্মকে অপব্যবহার করে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তারা মুখে ভারতবিরোধী অবস্থানের কথা বললেও তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ভারতের ছবি ব্যবহার করেছে। এমনকি ভোটারদের বিকাশ নম্বর ও এনআইডি সংগ্রহ করে অবৈধ অর্থ লেনদেনের চেষ্টাও তারা করছে। এটি স্পষ্টতই ভোটারদের সাথে প্রতারণা।

মাহদী আমিন আরও বলেন, সেই দলের প্রধান সম্বোধনের ন্যূনতম শিষ্টাচার হারিয়ে ফেলেছেন। জনগণের সাথে তুই-তোকারি করা কোনো নেতার ঐতিহ্য হতে পারে না।

নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও কিছু প্রজ্ঞাপন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন মাহদী আমিন। বিশেষ করে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মুঠোফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে তিনি ‘উৎসবমুখর পরিবেশে বিরূপ প্রভাব’ হিসেবে দেখছেন। মাহদী আমিন বলেন, ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধ করার এই সিদ্ধান্ত সাধারণ ভোটারদের নিরুৎসাহিত করবে। আমরা চাই, নির্বাচন কমিশন এই বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন থেকে সরে আসুক।

সংবাদ সম্মেলনে পর্যবেক্ষক নিয়োগের পরিসংখ্যান তুলে ধরে মাহদী আমিন জানান, কমিশন অনুমোদিত ৮১টি সংস্থার মধ্যে ১৬টি সংস্থাকেই দেওয়া হয়েছে প্রায় ৬৯ শতাংশ পর্যবেক্ষক পাঠানোর অনুমতি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এই সংস্থাগুলো অপেক্ষাকৃত অখ্যাত এবং এদের সাথে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এটি একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় অন্তরায়। বিএনপি ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশনকে আপত্তির কথা জানিয়েছে বলে জানান তিনি।

একটি বেসরকারি সংস্থার জরিপের বরাত দিয়ে মাহদী আমিন বলেন, দেশের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অর্ধেকের বেশি মানুষ এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। দল-মতনির্বিশেষে সবার ভোটাধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিএনপির জনপ্রিয়তার কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, আজ মাঠের বাস্তবতা বলছে, ধানের শীষের পক্ষে সারা দেশে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে বিএনপি নেতৃত্ব দিয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার আদর্শ ধারণ করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এখন জনপ্রিয়তার তুঙ্গে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে ধানের শীষের নিরঙ্কুশ বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।