আল নাসরের ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন পর্তুগাল অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ইএসপিএন ব্রাজিলকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি আল ফাতেহের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই মাঠে ফিরবেন ৪১ বছর বয়সী এই তারকা ফরোয়ার্ড।
এর আগে সৌদি প্রো লিগে আল নাসরের টানা দুটি ম্যাচে খেলেননি রোনালদো। গত শুক্রবার আল ইত্তিহাদের বিপক্ষে ২–০ গোলের জয় এবং তার আগের সপ্তাহে আল রিয়াদের বিপক্ষে জয়ের ম্যাচেও তিনি মাঠের বাইরে ছিলেন।
সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ)-এর সঙ্গে অসন্তোষের কারণেই এই দুটি ম্যাচে খেলেননি রোনালদো। ট্রান্সফার উইন্ডোতে ক্লাব সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে পিআইএফের ভূমিকা নিয়েই মূলত আপত্তি ছিল তার।
জানা গেছে, নিজের প্রধান দাবিগুলো পূরণ হওয়ায় আবার মাঠে ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রোনালদো। তার শর্ত অনুযায়ী, আল নাসরের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয়েছে এবং ক্লাবের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এর ফলে পিআইএফের পক্ষ থেকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া স্পোর্টিং ডিরেক্টর সিমাও কৌতিনহো এবং সিইও হোসে সেমেদো পুনরায় পূর্ণ ক্ষমতা নিয়ে কাজ শুরু করতে পারবেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত আল নাসরের হয়ে ২২ ম্যাচ খেলেছেন রোনালদো। করেছেন ১৮ গোল, সঙ্গে তিনটি অ্যাসিস্ট।
সৌদি প্রো লিগে বর্তমানে আল নাসর রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। শীর্ষে থাকা চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আল হিলালের থেকে তাদের ব্যবধান মাত্র এক পয়েন্ট।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, জানুয়ারি ট্রান্সফার উইন্ডোতে আল হিলাল দলে ভিড়িয়েছে করিম বেনজেমাকে—যিনি রিয়াল মাদ্রিদে রোনালদোর সাবেক সতীর্থ ছিলেন। আল হিলাল ক্লাবটিও ৭৫ শতাংশ মালিকানায় পিআইএফের অধীন।
এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে সৌদি প্রো লিগ কর্তৃপক্ষ রোনালদোকে সতর্ক করে জানায়, কোনো খেলোয়াড় নিজের দলের বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করতে পারেন না।
লিগের বিবৃতিতে বলা হয়, “সৌদি প্রো লিগ একটি সহজ নীতির ওপর পরিচালিত হয়—সব ক্লাব একই নিয়মের আওতায় স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে। প্রতিটি ক্লাবের নিজস্ব বোর্ড, নির্বাহী ও ফুটবল ব্যবস্থাপনা রয়েছে। দল গঠন, ব্যয় ও কৌশল নির্ধারণের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলোরই, একটি আর্থিক কাঠামোর ভেতরে থেকে, যা লিগের স্থায়িত্ব ও প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্য নিশ্চিত করে।”