গোপন বুথে লাইভ ও সাক্ষাৎকার নেওয়া যাবে না: ইসি সানাউল্লাহ

আসন্ন নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে গণমাধ্যমকর্মী ও পর্যবেক্ষকদের দায়িত্ব পালন নিয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরা ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ এবং ভিডিও করতে পারলেও গোপন বুথের ভেতর থেকে কোনো সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ) বা সাক্ষাৎকার নিতে পারবেন না।

আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন ভবনে দেশি-বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের উদ্দেশ্যে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান।

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য নীতিমালা পুস্তিকা আকারে দেওয়া হয়েছে। সংশোধিত নীতিমালায় ভোটকেন্দ্রের ভেতরে অবস্থান এবং বিভিন্ন এলাকা কভার করার ক্ষেত্রে সামান্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। গণমাধ্যমকর্মীরা অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড অনুযায়ী যেকোনো কেন্দ্রে প্রবেশ, ক্যামেরা বা সেলফোন ব্যবহার এবং ছবি-ভিডিও করতে পারবেন। তবে গোপন বুথে যেখানে ভোটার ভোট দিচ্ছেন, সেখানে সরাসরি সম্প্রচার এবং কারো সাক্ষাৎকার নেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটারদের সাক্ষাৎকার এবং লাইভ টেলিকাস্ট করা যাবে।

নির্বাচন-পূর্ব কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তরুণ ভোটারদের অনীহা দূর করতে কমিশন বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। আগে কেবল ১ জানুয়ারি বয়স পূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে ভোটার হওয়া যেত, তবে এবার আইনের পরিবর্তনের মাধ্যমে ১৫ অক্টোবরকে ভিত্তি ধরে অতিরিক্ত ১২ লাখ তরুণকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ভোটার তালিকা থেকে ২০ লক্ষাধিক মৃত ব্যক্তির নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং নারী ও পুরুষ ভোটারের মধ্যকার ব্যবধান উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা হয়েছে।

সীমানা নির্ধারণ এবং ভোটকেন্দ্র নির্বাচনের কাজ অত্যন্ত সূক্ষ্ম বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানান এই কমিশনার। বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ১৬টি, যার মধ্যে ১৩টি দল এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। এছাড়া লজিস্টিক প্রস্তুতির জন্য প্রায় ৯ মাস সময় লেগেছে এবং এই কাজে ইউএনডিপি ও সহযোগী রাষ্ট্রগুলো লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করেছে। নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী প্রায় ৮ লাখ কর্মকর্তাকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে আইটি-সমর্থিত ‌‘পোস্টাল ব্যালট’ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ইসি সানাউল্লাহ জানান, ১৫ লাখ পোস্টাল ব্যালটের মধ্যে ইতিমধ্যে ৯ লাখ ব্যালট রিটার্নিং অফিসারদের হাতে পৌঁছেছে। আগামীকাল বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এই ব্যালট গ্রহণের সময়সীমা নির্ধারিত রয়েছে। যারা পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন, তারা সরাসরি ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে পারবেন না; তাদের শনাক্ত করতে ভোটার তালিকায় বিশেষ ‘ওয়াটারমার্ক’ দেওয়া হয়েছে।

সারাদেশে প্রায় ৩১ হাজার সাধারণ ভোটকেন্দ্র এবং নারী ও পুরুষদের জন্য আলাদা করে ৫ হাজার করে বিশেষ কেন্দ্র রাখা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন প্রিজাইডিং অফিসার এবং প্রতিটি বুথে একজন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারসহ দুইজন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটকেন্দ্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি বুথে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পোলিং এজেন্টদের উপস্থিত থাকার সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।