আলবেনিয়ায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সহিংসতা, আটক ১৩

আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় প্রধানমন্ত্রী এদি রামার পদত্যাগ দাবিতে অনুষ্ঠিত সরকারবিরোধী বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিয়েছে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন এবং ১৩ জনকে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা ও ফ্লেয়ার নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে। পার্লামেন্ট ভবনের কাছেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

আহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্য, বিক্ষোভকারী নাকি উভয় পক্ষের লোকজন রয়েছেন-এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
 
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আলবেনিয়ায় ধারাবাহিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের এটি সর্বশেষ ঘটনা। গত নভেম্বর মাসে উপপ্রধানমন্ত্রী ও জ্বালানি-অবকাঠামো মন্ত্রী বেলিন্ডা বল্লুকুর বিরুদ্ধে সরকারি নির্মাণ চুক্তিতে হস্তক্ষেপের অভিযোগ ওঠার পর থেকেই রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ে। অভিযোগের পর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী রামার অনুরোধে পুনর্বহাল করা হয়।

বিক্ষোভকারীরা রামা ও বল্লুকু-উভয়ের পদত্যাগ দাবি করেছেন। পাশাপাশি বল্লুকুর বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া চালাতে তার সংসদীয় দায়মুক্তি স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছেন।
 
মঙ্গলবারের বিক্ষোভে ১,৩০০-এর বেশি পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এর দুই সপ্তাহ আগেও তিরানায় আরেকটি সহিংস সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী সালি বেরিশা এই বিক্ষোভের ডাক দেন। তিনি বলেন, দেশে 'শান্তিপূর্ণ গণআন্দোলন' শুরু হয়েছে। তবে বেরিশার বিরুদ্ধেও অতীতে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মেন্টর কিকিয়া বলেন, সরকার ও বিরোধী—উভয় পক্ষের প্রতিই জনগণের আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে।
তার ভাষ্য, 'জনগণ বরাবরই বড় অপরাধীদের ঠেকাতে অপেক্ষাকৃত কম অপরাধীকে ভোট দিয়েছে। এখন ধারণা হচ্ছে, রামা গেলে বেরিশা ফিরবেন। একজন দুর্নীতির কারণে ক্ষমতা হারিয়েছেন, অন্যজনকেও একই কারণে সরে যেতে হবে।'