ইরানে দেশজুড়ে গত মাসে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী বিক্ষোভের পর বহু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দেশটির ভেঙে পড়া অর্থনীতিতে এ পদক্ষেপ সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরকারের কূটনৈতিক সম্পর্কও অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে।
পুলিশ বা বিচার বিভাগ এখনো স্পষ্ট করে জানায়নি কেন এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছে। বন্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগই তেহরানের কেন্দ্র ও উত্তরাঞ্চলে তরুণদের জনপ্রিয় আড্ডাস্থল ছিল। তবে জানা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকেই দেশব্যাপী বিক্ষোভের সময় ধর্মঘট পালন করেছিল বা ইনস্টাগ্রাম স্টোরির মাধ্যমে আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রেস্তোরাঁ, ক্যাফে ও কফি রোস্টারি, আর্ট গ্যালারি থেকে শুরু করে আইসক্রিমের দোকান—এমন ডজনখানেক ছোট ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে জনসমাগমস্থল তদারকির দায়িত্বে থাকা পুলিশ বিভাগ।
বন্ধ হয়ে যাওয়া ব্যবসাগুলোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজে প্রকাশিত নোটিশে বলা হয়েছে, তাদের প্রকাশিত কনটেন্ট 'দেশের নিয়ম লঙ্ঘন করেছে এবং পুলিশি বিধিনিষেধ মানেনি।'
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি)ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস–ঘনিষ্ঠ ফার্স নিউজ এজেন্সি একটি চিঠির ছবি প্রকাশ করে, যা তাদের দাবি অনুযায়ী ব্যক্তিমালিকানাধীন ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলি সায়েদিনিয়ার স্বাক্ষর করা স্বীকারোক্তিপত্র। ৮১ বছর বয়সী সায়েদিনিয়া ও তার পরিবার দেশজুড়ে বহু শাখা নিয়ে জনপ্রিয় কয়েকটি ক্যাফে ও খাদ্য ব্র্যান্ড পরিচালনা করতেন। বিচার বিভাগ গত সপ্তাহে নিশ্চিত করেছে যে বিক্ষোভ-পরবর্তী সময়ে তাকে কারাগারে রাখা হয়েছে। তার সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং অস্থিরতার সময় হওয়া ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ হিসেবে তার সমস্ত সম্পদ জব্দ করা হয়েছে।