ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ৫০ থানা নিয়ে ১৫টি সংসদীয় আসন গঠিত হয়েছে। এসব ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ (১৬১৪টি) ঝুকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে ডিএমপি। যার মধ্যে সাধারণ কেন্দ্রের সংখ্যা মাত্র ৫১৭টি। সবদিক বিবেচনা করে নিরবিচ্ছিন্ন নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে পুলিশ। সামগ্রিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত থাকবে। তবে সবচেয়ে বেশি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে জামায়াত ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের ঢাকা-১৫ আসনে।
ডিএমপির এক ঊধ্বর্তন কর্মকর্তা বলেন, মহানগরী এলাকায় ঝুকিপূর্ণ আসন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের আসনটি। ডিএমপির মিবপুর বিভাগে ঝুকিপূর্ণ কেন্দ্র সবচেয়ে বেশি। ওই বিভাগে ৪৪০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৩১টি ঝুকিপূর্ণ। এছাড়া ওয়ারী বিভাগে ৩২৭ কেন্দ্রের মধ্যে ২৮০টি, মতিঝিল বিভাগের ২৮০টির মধ্যে ২২৮টি, তেজাগাঁও বিভাগের ২৮৬টির মধ্যে ১৯৯টি, গুলশান বিভাগের ২৪৯টির মধ্যে ১৭৮টি, লালবাগ বিভাগের ২১৭টির মধ্যে ১৫৫টি, উত্তরা বিভাগের ১৬৫টির মধ্যে ১৩৬টি এবং রমনা বিভাগের ১৬৭টির মধ্যে ১০৭টি ঝুকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে।
ডিএমপির সূত্রে জানা গেছে, নিরাপত্তা পরিকল্পনা সফল ও কার্যকর করতে ঢাক মহানগরীকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করেছে ডিএমপি। ডিএমপির ৮টি অপরাধ বিভাগ, ৮টি গোয়েন্দা বিভাগকে সেক্টরে, একটি সিটিটিসি বিভাগকে, চারটি জোনায় কন্ট্রোল রুম ও ৮টি ডিভিশনাল সাব-কন্ট্রোল রুমকে একটি সেক্টর এবং নির্বাচন কমিশন কার্যালয়, রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়, রাষ্ট্রিয় অতিথি ভবন যমুনা ও অন্যান্য অফিসকে একটি সেক্টরের আওতায় নিয়ে ১১টি সেক্টরের ভাগ করা হয়েছে। এসব সেক্টরের প্রধান (ইনচার্জ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন উপ-পুলিশ কমিশনাররা।
এদিকে নির্বাচন ঘিরে সবোর্চ্চ সর্তক অবস্থানে রয়েছে সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। ঢাকা মহানগরীর ১৫টি আসনের জন্য সেনাবাহিনীর ৫টি ব্রিগেড কাজ করছেন। এর মধ্যে ঢাকা ১৫ আসনের জন্য সেনাবাহিনীর একটি ব্রিগেড কাজ করছেন। এছাড়া বিজিবি দুটি ভাগে ২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। তারা সাতটি বেইজ ক্যাম্প থেকে পুরো অপারেশন কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এর পাশাপাশি র্যাবের একাধিক ইউনিট নিরাপত্তায় কাজ করছেন।
নির্বাচনে পুলিশ-আসনার মোতায়েন
নির্বাচন ঘিরে একটি ভ্যানুতে ১-৪ কেন্দ্রবিশিষ্ট ঝুকিপূর্ণ ভোট কেন্দ্রে একজন উপপুলিশ পরিদর্শক (এসআই) বা সহকারী পুলিশ পরিদর্শকসহ (এএসআই) তিনজন কনস্টেবল মোতায়েন থাকবে। আর সাধারণ কেন্দ্রে একজন উপপুলিশ পরিদর্শক (এসআই) বা সহকারী পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই)সহ দু’জন মোতায়েন থাকবে। তাদের একজনের শরীরে বডি ওর্ন ক্যামেরা থাকবে। এক ভ্যানুতে পাঁচটি কেন্দ্র হলে সেখানে একজন পরিদর্শক দায়িত্বে থাকবেন। ভোটের কার্যক্রমে যুক্ত থাকবে ডিএমপি কমিশনার থেকে শুরু করে কনস্টেবল পর্যন্ত ২৬ হাজার ৫১৫ জন সদস্য। তাদের মধ্যে ২৬৬জন নারী কর্মকর্তা ও ফোর্স কাজ করবে।
পাশাপাশি প্রতিটা কেন্দ্রে অস্ত্রসহ আনসার ও ভিডিপির একজন সেকশন কমান্ড, সহকারী সেকশন কমান্ড ও একজন প্রিজাইডিং অফিসারের দেহরক্ষী থাকবে। এছাড়া লাঠি-ঢালসহ ৬ পুরুষ ও ৪ নারী মোতায়েন থাকবে। ২ হাজার ১৩১ কেন্দ্রে আনসারের ২৭ হাজার ৭০৩ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে ডিএমপির পক্ষ থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ভিআইপি স্কর্ট, পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসক, অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার টেন্ডার ও ফোর্স মোতায়েন স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে। এছাড়া যানবাহন সরবরাহ ও মেরামত, জরুরি সেবা, সচিবালয়, প্রসিকিউশন, ডিপ্লোম্যাটিক এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি বৈধ অস্ত্রধারীদের বিষয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রদর্শন ও বহন নিষিধ আছে। কেউ অস্ত্র প্রদর্শনের চেষ্টা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া নির্দেশ। এবার সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশের অস্ত্র মোতায়েন
প্রতিটা ভোট কেন্দ্রে পুলিশেল সব ফোর্স শটগান বহন করবেন; মোবাইল প্যাট্রল দলে একটি চায়না রাইফেল, দুটি শটগান, একটি ঢাল থাকবে; স্ট্রাইকিং দলে একটি চায়না রাইফেল, দুটি শটগান, একটি গ্যাসগান, একটি ঢাল-রশি থাকবে। এছাড়া পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) পিস্তালসহ ইনচার্জ পরিদর্শক ও একজন এসআই, ঢাল-লাঠি নিয়ে চাজিং পার্টিতে ১৫ জন, হ্যান্ডকাপ-রশিসহ এ্যারের্স্টি পার্টিতে ৬ জন, গ্যাস পার্টিতে ৬ জন, আর্মস পার্টিতে ৯ জন চারটি চায়না রাইফেল, পাঁচটি শটগান থাকবে।
টহলে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে এক থেকে দু’জন এসআই বা এএসআইসহ পাঁচজনের একটি করে দলে নির্বাচনে মোতায়েন হবে। তাদের সঙ্গে থাকবে একটি পিস্তাল, একটি চাইনিজ রাইফেল, ৪০ রাউন্ড গুলি, দুটি শটগান ৬০ রাউন্ড গুলি এবং একজন সদস্য লাঠি, ঢাল, হ্যান্ডকাপ ও রশি।
ডিএমপির মুখপাত্র উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, নির্বাচনে যেকোনো ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডিএমপির পক্ষ থেকে সব ধরণের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচনে সহিংসতায় বন্ধে অভ্যান্তরীণভাবে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।