আজ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা মহানগরীসহ জেলার ছয়টি আসনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাড়ে ১৮ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। গতকাল বুধবার সারা দিন খুলনায় ব্যস্ত সময় পার করেছেন নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ ছাড়া কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মহানগরীর দুটিসহ জেলার ছয়টি আসনের কেন্দ্রগুলোয় ব্যালট পেপার পাঠানো হয়েছে।
খুলনা জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, খুলনা ছয়টি সংসদীয় আসনে ১ হাজার ২৫০ জন সেনা সদস্য, ৩০০ জন বিজিবি, ৯৫৪ জন নৌবাহিনীর সদস্য, ৩৫৫জন কোস্ট গার্ড সদস্য, ৯৮ জন র্যাব সদস্য, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ২ হাজার ৪৩১ জন সদস্য, জেলা পুলিশের ২ হাজার ১২৪ জন সদস্য ও আনসার ভিডিপির ১১ হাজার ১১২ জনসহ ১৮ হাজার ৪২৪ জন সদস্য নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করছে। এ ছাড়া খুলনা মহানগরী ও জেলায় ৪০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ১৪ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন।
ইসি সূত্র জানায়, খুলনায় মোট কেন্দ্র সংখ্যা ৮৪০টি। এরমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৩৪২টি। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোয় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ছয়টি আসনের মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ আসন খুলনা-৬। এই আসনের ১৫৫টির মধ্যে ১০৪টি অতি গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
খুলনা জেলা প্রশাসক রিটার্নিং কর্মকর্তা আ স ম জামশেদ খোন্দকার জানান, সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন নির্বাচনের জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এদিকে গতকাল বুধবার বিকেলে নগরীর শিববাড়ি মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জয়েন্ট প্যাট্রলের মহড়া উপলক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সেনাবাহিনীর (১৭ বীর) ক্যাম্পের অধিনায়ক লে.কর্নেল তায়েফ বলেন, কেউ নির্বাচন ব্যাহত করার অপচেষ্টা করতে চাইলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভোটাররা যাতে নিশ্চিতভাবে ভোট দিতে পারেন সে ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি দেখার জন্য গত মঙ্গলবার বিকেলে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের প্রতিনিধিদল খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এ সময় তারা নগরীর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির খোঁজখবর নেয়।