অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ‘নজরদারি প্রযুক্তির সংগ্রহ ও ব্যবহার পর্যালোচনা কমিটি’ প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এতে রাষ্ট্রের নজরদারি সক্ষমতা এবং এর সীমাবদ্ধতাগুলোর আইনি এবং কারিগরি দিকগুলোর পর্যালোচনা করা হয়েছে। এ ছাড়া এতে জাতীয় নিরাপত্তা, জরুরি প্রাণরক্ষা, জননিরাপত্তা ও বিচারিক প্রয়োজনের পাশাপাশি নাগরিকের গোপনীয়তার সাংবিধানিক অধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে আটটি মানদ-ের সাপেক্ষে আটটি সুপারিশ প্রস্তাব করা হয়।
গত মঙ্গলবার প্রতিবেদনটি জমা দেওয়া হয় বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের কিছু গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ, গুম ও বেআইনি আটক-সংক্রান্ত ঘটনা এবং একই সঙ্গে নজরদারির মাধ্যমে অপরাধ দমন ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় সাফল্যÑ এ দুই বাস্তবতার সম্মিলিত প্রেক্ষাপটে এই প্রতিবেদন প্রণীত হয়েছে। বিদ্যমান আইন, নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার আলোকে নজরদারি ব্যবস্থার কাঠামোগত ঝুঁকি, শাসনগত ঘাটতি এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য।
কমিটি এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে তথ্যভিত্তিক, তুলনামূলক ও নীতিনির্ভর বিশ্লেষণের মাধ্যমে। প্রতিবেদনে বর্তমানে প্রচলিত অসম্পূর্ণ ও স্বচ্ছতাহীন কাঠামো থেকে বেরিয়ে; মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক এবং ‘দ্বিস্তরীয় স্বচ্ছতা ও গোপনীয়তা’ কাঠামো-সংবলিত আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা একটি বৈশ্বিক মানসম্পন্ন রাষ্ট্রীয় সক্ষমতার অনুষঙ্গ হিসেবে কাজ করবে। আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের দিকনির্দেশনা, অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা ও চর্চা, মানবাধিকার মানদ- এবং বাংলাদেশের বাস্তব প্রশাসনিক সক্ষমতাÑ এই সবকিছুর আলোকে একটি বাস্তবসম্মত সংস্কারপথ উপস্থাপন করাই ছিল এই প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য।
এই কমিটির প্রস্তাবনার মধ্যে ছিল এনটিএমসি বিলুপ্তি এবং টেলিযোগাযোগ আইন-২০০১-এর ৯৭, ৯৭ক, ৯৭খ, ৯৭গ সংস্কারের বিস্তারিত রোডম্যাপ। অন্তর্বর্তী সরকার ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে টেলিযোগাযোগ আইনের সংশোধিত ভার্সন গেজেটভুক্ত করেছে। এ ছাড়া এই কমিটি অধিকতর রাষ্ট্রীয় তদন্ত ও অনুসন্ধানের প্রস্তাব করেছে।
এই প্রতিবেদন প্রণয়নের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকারকে পরস্পরবিরোধী নয়, বরং পরস্পরসম্পূরক হিসেবে দেখার একটি নীতিগত কাঠামো নির্মাণের প্রয়াস নেওয়া হয়েছে।