লক্ষ্মীপুরের চারটি সংসদীয় আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। ভোট গণনা শেষে বৃহস্পতিবার রাতে স্ব স্ব আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ফলাফল ঘোষণা করেন। চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক ও রিটানিং কর্মকর্তা এস এম মেহেদী হাসান।
লক্ষ্মীপুর-১ (রামগঞ্জ) আসনে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির শাহাদাত হোসেন সেলিম। তিনি পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৮১১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপির মাহবুব আলম পেয়েছেন ৫৯ হাজার ২৬৫ ভোট। শাহাদাত হোসেন সেলিম ২৭ হাজার ৫৪৬ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হন।
লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদর আংশিক) আসনে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির আবুল খায়ের ভূঁইয়া। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩২১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের এসইউএম রুহুল আমিন ভূঁইয়া পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৯৮ ভোট। আবুল খায়ের ভূইয়া ১২ হাজার ৬২৩ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬১২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের রেজাউল করিম পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৮০২ ভোট। শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি ১২ হাজার ৮১০ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির আশরাফ উদ্দিন নিজান। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ১৫ হাজার ১৯৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের এ আর হাফিজ উল্লাহ পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৭৫৬ ভোট। ৪১ হাজার ৪৪৩ ভোট বেশি পেয়ে আশরাফ উদ্দিন নিজান বিজয়ী হয়েছেন।
এদিকে লক্ষ্মীপুরে চারটি সংসদীয় আসনে গনভোটে ৬ লাখ ১৫ হাজার ৯৭৮ ভোট পেয়ে "হ্যাঁ" পক্ষে বিজয়ী হয়েছে। আর "না" এর পক্ষে ভোট পড়েছে ২ লাখ ৫০ হাজার ৭৪৯টি। এদিকে বিজয়ী প্রার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন পরাজিত প্রার্থীরা। সুষ্ঠু ও অবাধ ভোট হওয়ার কারণে অল্প ভোটের ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। জেলার উন্নয়নে পরাজিত ও বিজয়ীরা এক সাথে কাজ করবেন বলে আশা করেন ভোটাররা।
এদিকে লক্ষ্মীপুর-৩ সদর আসনের বিজয়ী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, এই বিজয় তার একার নয়, তার সংসদীয় আসনের জনগণের বিজয়। জনগণকে বিজয় উৎসর্গ করেছেন তিনি। পাশাপাশি সবাইকে নিয়ে উন্নয়নে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। একই কথা বলেন, লক্ষ্মীপুর-২ আসনের বিজয়ী আবুল খায়ের ভূইয়াও।