ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লার ১১টি আসনের মধ্যে ৮টিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বাকি তিনটি আসনের মধ্যে একটি করে পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান স্বাক্ষরিত ফলাফলে এ তথ্য জানানো হয়।
সবচেয়ে বড় চমক দেখা গেছে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে। সেখানে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আতিকুল আলম শাওন ৯০ হাজার ৮১৯ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তিনি পরাজিত করেছেন পাঁচবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী ড. রেদোয়ান আহমেদকে, যিনি পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৯২৫ ভোট।
সর্বশেষ এলডিপির মহাসচিবের পদ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে মনোনয়ন পান ড. রেদোয়ান। এতে স্থানীয়ভাবে দলে বিদ্রোহ দেখা দেয়। বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাওনকে বহিষ্কার করা হয় এবং পরে তার নেতৃত্বাধীন কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়।
কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৩০৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মনিরুজ্জামান বাহালুল পেয়েছেন ৯০ হাজার ৪৯৯ ভোট।
কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (কুমিল্লা বিভাগ) অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া ৭৬ হাজার ২৬৮ ভোটে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মতিন খান পেয়েছেন ৬২ হাজার ৩৮৫ ভোট।
কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ ১ লাখ ৫৮ হাজার ৯৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের ইউসুফ হাকিম সোহেল পেয়েছেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮০ ভোট।
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৫২৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গণঅধিকার পরিষদের জসিম উদ্দিন পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৬৪৪ ভোট।
কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনে বিএনপির মো. জসিম উদ্দিন ১ লাখ ৩২ হাজার ৬৭০ ভোট পেয়ে জয়ী হন। জামায়াতের ড. মোবারক হোসেন পেয়েছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৫০১ ভোট।
কুমিল্লা-৬ (আদর্শ সদর-সদর দক্ষিণ) আসনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মো. মনিরুল হক চৌধুরী ১ লাখ ৯৯ হাজার ৩৭২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। জামায়াতের কাজী দ্বীন মোহাম্মদ পেয়েছেন ১ লাখ ১৪ হাজার ২২৬ ভোট।
কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনে বিএনপির জাকারিয়া তাহের সুমন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৪৩১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। জামায়াতের ড. মো. শফিকুল আলম হেলাল পেয়েছেন ৪১ হাজার ৩৪৫ ভোট।
কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক মো. আবুল কালাম ১ লাখ ৬৮ হাজার ১০৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। জামায়াতের সৈয়দ সরওয়ার উদ্দিন ছিদ্দিকী পেয়েছেন ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৫৪ ভোট।
কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-লালমাই) আসনে বিএনপির মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া ১ লাখ ৬৩ হাজার ৬৬৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের ইয়াসিন আরাফাত পেয়েছেন ১ লাখ ২৫ হাজার ২১০ ভোট।
কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩০৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। বিএনপির মো. কামরুল হুদা পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৬৩৮ ভোট।
ফলাফল অনুযায়ী, জেলায় বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও কয়েকটি আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে। বিশেষ করে চান্দিনায় বিদ্রোহী প্রার্থীর জয় স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।