ভোটে জিতেই কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামীলীগের একটি দলীয় কার্যালয়ের তালা খুলে দিয়েছেন পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান। শুক্রবার সকালে পঞ্চগড় সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের অফিস খুলে দিয়ে তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির এই নেতা। এদিকে আওয়ামী লীগের ওই কার্যালয় খুলে দেয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পক্ষে বিপক্ষে মন্তব্যের ঝড় উঠে।
চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বুলেটকে বলতে শোনা যায়, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জননেতা আবু দাউদ প্রধান প্রথমে যে কাজটি করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতি তথা আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রাণের সংগঠন চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগকে তিনি আজ তালা অবমুক্ত করেছেন।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেনকে বলতে শোনা যায়, আমাদের নামে মিথ্যে মামলা হয়েছে সেখান থেকে যেন আমাদের রক্ষা করা হয় এই অনুরোধ জানাচ্ছি আমার মামা আবু দাউদ প্রধানের কাছে।
সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আনিসুজ্জমান স্বপনকে বলতে শোনা যায়, বাংলাদেশের পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যদি কেউ ছিনিমিনি খেলার চেষ্টা করে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই পরাজিত শক্তিকে আবারো নস্যাৎ করবো। দলমত নির্বিশেষে সবাই আমরা এলাকায় থাকতে চাই।
বিএনপি নেতা আবু দাউদ প্রধানকে বলতে শোনা যায়, কিছুক্ষণ আগে আমি জানলাম আওয়ামী লীগ অফিসে তালা দেয়া আছে। আগে জানলে আগেই ব্যবস্থা নিতাম। দীর্ঘ ১৮ বছর পর আমাদের বিজয় হয়েছে। স্বাধীনতার উভয়পক্ষের শক্তিগুলো এক হয়ে মেন্ডেট দিয়েছে। যার কারণে আমরা রেকর্ড পরিমাণ ভোট পেয়েছি সারা বাংলাদেশে। আমি উভয় দলের নেতাকর্মীদের বলবো প্রত্যেক দলে কম বেশি দুষ্ট প্রকৃতির লোক আছে। তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ আছে আমাদের। কোনও অবস্থাতেই আমাদের এলাকার শাস্তি শৃঙ্খলা কেউ যেন ভঙ্গ করতে না পরে। আওয়ামী লীগের ভাইদের উদ্দেশ্য করে বলতে চাই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের নাগরিক আপনারা। আপনারা কোন প্রকার অন্যায় করবেন না, আপনাদের গায়ে কেউ যদি কোন আচড় দেয় আমাকে জানাবেন। কোন অন্যায়কারীকে আমি প্রশ্রয় দেব না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন বলেন, এই অফিসটি জামায়াতের লোকেরা তালাবদ্ধ করে রেখেছিল। আজ আমরা আবু দাউদ প্রধানসহ এলাকায় অনেক মানুষ নিয়ে অফিসটি খুলেছি। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা চলছে। এই অফিসটি আপাতত আমরা মুক্তিযোদ্ধারা বসব। আওয়ামী লীগের কোন কার্যক্রম আপাতত এই অফিস থেকে হবে না।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান বলেন, এটা আমার দলের সিদ্ধান্ত নয়। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ না করে শান্তিপূর্ণ রাখার জন্যই আওয়ামী লীগের অফিস খুলে দিয়েছি। এর আগে জামায়াত এই অফিসটি তালাবদ্ধ করে রেখেছিল।
বিএনপির অফিস খুলে দেয়ার বিষয়টি নিয়ে জেলা বিএনপির আহবায়ক মো. জাহিরুল ইসলাম কাচ্চু বলেন, জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে এ ধরনের কোন সীদ্ধান্ত নেই। এমনকি কেন্দ্রীয় ভাবেও কোন নির্দেশনা নেই। উপজেলা বিএনপির সভাপতি যেটি করেছে এর দায় তাকে বহন করতে হবে। আমরা বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রে কথা বলব।
জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ইউনুস শেখ বলেন এই ঘটনাটি আমাদের হতবাক করেছে। সাংগঠনিক ভাবে আমাদের কোন নির্দেশনা নেই।