ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে নতুন সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। দু একদিনের মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নিতে পারেন। এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানসহ সার্কভুক্ত অন্যান্য দেশের সরকারপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বিএনপি।
বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা, যিনি নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন, তিনি বিবিসি বাংলাকে বলেন, নতুন যাত্রায় আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যের বার্তা পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ। তাঁর মতে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ছাড়াও অন্যান্য সার্ক রাষ্ট্রের প্রধানদের এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব ইতিমধ্যে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে শপথের দিনক্ষণ এবং চূড়ান্ত অতিথি তালিকা এখনও প্রস্তুত হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে দেশি-বিদেশি গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।
নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভ করেছে, যা তাদের এককভাবে সরকার গঠনের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক পথ নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে, জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় থাকছে জামায়াতে ইসলামী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারত ও পাকিস্তানের সরকারপ্রধানদের পাশাপাশি বসার উদ্যোগ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর জনমতের সরাসরি রায় পেয়ে বিএনপি এখন দেশ পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে আর এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার ইঙ্গিত দিচ্ছে দলটির নীতিনির্ধারণী মহল।