ভারতে পাচারের ২৫ বছর পর গ্রামে ফিরলেন রেজাউল

দীর্ঘ ২৫ বছর নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে নিজ গ্রামে ফিরেছেন কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বাদিয়ারছড়া গ্রামের মো. রেজাউল ইসলাম। আড়াই দশক আগে হারিয়ে যাওয়া টগবগে যুবক রেজাউল যখন প্রৌঢ়ত্ব ছুঁইছুঁই অবস্থায় বাড়ির মাটিতে পা রাখেন, তখন পুরো এলাকায় সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বাদিয়ারছড়া গ্রামের মো. কুদ্দুস মিয়ার ছেলে রেজাউল দেশে ফেরেন।

এ সময় পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন সবাই তাকে জড়িয়ে ধরে কন্নায় ভেঙে পড়েন। দীর্ঘদিন পর হারিয়ে যাওয়া স্বজনকে ফিরে পেয়ে পরিবার ও এলাকাবাসীর চোখে ছিল আনন্দের অশ্রু। হঠাৎ নিখোঁজ, পরিবার হারায় সব আশা। 

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৫ বছর আগে হঠাৎ করেই নিখোঁজ হন মো. কুদ্দুস মিয়ার ছেলে রেজাউল। পরিবারের পক্ষ থেকে অনেক খোঁজাখুঁজি করা হলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবার প্রায় আশা ছেড়েই দিয়েছিল।

রেজাউল জানান, তাকে ফুসলিয়ে সীমান্ত পার করে ভারতে পাচার করা হয়। সেখানে একটি দুর্গম এলাকায় গরুর খামারে তাকে বন্দি করে রাখা হয়।

তার ভাষ্যমতে, ওই খামারে তাকে অমানবিক পরিশ্রম করানো হতো। দীর্ঘ ২৫ বছরেরও বেশি সময় কাজ করলেও তাকে কোনো পারিশ্রমিক দেওয়া হয়নি। বিনিময়ে কেবল তিন বেলা খাবার দেওয়া হতো। পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ না দিতে খামার মালিক তাকে কড়া পাহারায় রাখতেন। কার্যত দাসের মতো জীবন কাটাতে বাধ্য হন তিনি।

সম্প্রতি সুযোগ বুঝে খামার থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন রেজাউল। সীমান্ত এলাকায় পৌঁছে তিনি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ সদস্যদের কাছে নিজের করুণ কাহিনী তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশে ফেরার আকুতি জানান।

বিএসএফ সদস্যরা পাসপোর্ট-ভিসা না থাকায় আইনি জটিলতার কথা জানালেও রেজাউলের দীর্ঘ বন্দিদশার কাহিনী শুনে মানবিক হয়ে ওঠেন। রেজাউলের দাবি, তাকে ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ সাজিয়ে এবং কিছু টাকা দিয়ে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে প্রবেশের ব্যবস্থা করে দেন বিএসএফ সদস্যরা।

দীর্ঘ আড়াই দশক পর বাড়ি ফেরায় বাদিয়ারছড়া গ্রামে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। রেজাউলের বাবা কুদ্দুস মিয়া ও পরিবারের সদস্যরা ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশা প্রায় হারিয়ে ফেলেছিলেন।
রেজাউলকে এক নজর দেখতে গ্রামে ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক মানুষ। হারিয়ে যাওয়া স্বজনকে ফিরে পেয়ে পরিবারটির ঘরে এখন বইছে ঈদের আনন্দ।