ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী দুদিন পার হয়েছে। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগে ও পরের দিনগুলো অনেক গুরুত্বপর্ণ। অতীতের নির্বাচনে সংহিসতা, সংঘর্ষ ও মারধর অহরহ ঘটলেও এবারের নির্বাচন ছিল কিছুটা ব্যতিক্রম। এমন সুন্দর, সুষ্ঠু পরিবেশ ও কোনো ধরনের সহিংসতা ছাড়া নির্বাচন উপলক্ষে প্রশংসায় ভাসছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। যারা নির্বাচনের সমালোচনা ও সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব বলতেন তারাই এখন নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে প্রশংসা করেন।
ভোটকেন্দ্রের বাইরে নির্বিঘ্নে ভোটারদের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সচেষ্ট ছিলেন। দেশ জুড়ে নিñিদ্র নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব পালন ছিল চোখে পড়ার মতো। যেখানেই বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করা হয়েছে সেখানেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উপস্থিত হয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছাড়াই সুষ্ঠুভাবে ভোট সম্পন্ন হয়। নির্বাচনের পর বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রশংসায় ভাসছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক একটি নির্বাচন উপহার দেওয়ায় মানুষের মুখে মুখে এখন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রশংসা। এই প্রশংসায় এগিয়ে আছেন তাকে নিয়ে আগে সমালোচনাকারীরাও। স্বয়ং পুলিশ সদস্যরা বলছেন, এমন প্রধান উপদেষ্টা পাওয়ার কারণেই কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পূর্ণ সুষ্ঠুভাবে জনগণকে উপহার দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এ নির্বাচনের কৃতিত্ব প্রধান উপদেষ্টাকে দিতে চাই।
এ নির্বাচনে পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রেখে তারা দেশের মানুষকে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিয়েছে, যা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) বাহারুল আলম বলেন, নির্বাচনে নিরাপত্তায় পুলিশের কৃতিত্ব এটুকুই পুলিশ একজন অসাধারণ প্রধান উপদেষ্টা পেয়েছিল। যাকে আমরা গালি দিয়েছি, কটুবাক্য শুনিয়েছি, মিথ্যা অভিযোগে অভিযুক্ত করেছি, বিকৃত নামে ডেকেছি; আমাদের অভিধানে থাকা সব বাজে শব্দের তীর ছুড়ে দিয়েছি তার দিকে। আর তিনি নীলকণ্ঠের মতো সব গরল পান করে নিজের কাজটুকু সেরে, ব্যথিত হৃদয়ে ক্লিষ্ট এক চিলতে হাসি হেসে নীরবে জনদৃষ্টির আড়ালে সরে যাচ্ছেন। এই মহৎ প্রাণকে ধারণ করার যোগ্যতা এই জাতির নেই। রাষ্ট্রের মঞ্চ থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রস্থান আমার মতো অনেককেই অশ্রুসিক্ত করবে।
ভোটের আগের রাত থেকেই রাজধানীসহ সারা দেশের কেন্দ্রগুলো নিñিদ্র নিরাপত্তায় ছিলেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ভোটকেন্দ্রে রাত্রিকালীন পাহারা, নির্ঘুম দায়িত্বপালন ছিল নজিরবিহীন চিত্র। তবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা ঘটলেও তাৎক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে সমাধান হয়।
এবারের নির্বাচনী মাঠে শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভোটকেন্দ্রগুলোতে গড়ে তোলা হয়েছিল কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয়। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টহল ও তল্লাশি চৌকি বসিয়েও দায়িত্ব পালন করা হয়।
সার্বিক এই নিরাপত্তা ব্যবস্থায় মোতায়েন করা হয় সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য। পাশাপাশি এই সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ মাঠে বিশেষ দায়িত্ব পালন করছেন ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
এদিকে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও আনসারের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীরও কঠোর পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন রাজনৈতিক দলের নেতারা। প্রতিটি নির্বাচনে এ ধরনের পরিবেশ বজায় থাকবে বলে আশা করেন নেতারা।