পে স্কেল বাস্তবায়নে তারেক রহমানের সাক্ষাৎ চান নেতারা

পে স্কেল বাস্তবায়ন ঐক্য পরিষদ নতুন সরকারের কাছে তাদের ৭ দফা দাবি উপস্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। সংগঠনটির নেতারা শীঘ্রই বিএনপির চেয়ারম্যান ও সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এসব দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানাবেন।

দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ সচিবালয়ের বাইরের বিভিন্ন দপ্তর, অধিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সব কর্মচারী সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত জোট। এই সংগঠনের সঙ্গে শিক্ষক-কর্মচারীসহ দেশের ২২ লাখ সরকারি কর্মচারী সম্পৃক্ত রয়েছেন।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সংগঠনের মুখ্য সমন্বয়ক ওয়ারেছ আলী গণমাধ্যমকে জানান, নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তারা তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। তিনি বলেন, আমরা আশা করি তিনি আমাদের দাবি বাস্তবায়নে ফলপ্রসূ সিদ্ধান্ত নেবেন।

এর আগে ওয়ারেছ আলীর নেতৃত্বে সংগঠনের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের দপ্তরে লিখিত আবেদন করা হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা সরকারের সব উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়ন করলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ন্যায্য প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হন। ২০১৫ সালের বৈষম্যমূলক পে স্কেল দেওয়ার পর থেকে সংগঠনটি বৈষম্য নিরসনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, বর্তমানে বাজারমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, সেবা খাতের ব্যয় বৃদ্ধি ও পরিবারের ভরণ-পোষণের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ১১ থেকে ২০ গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

সংগঠনটির ৭ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে-

১. ১:৪ অনুপাতে ১২ ধাপে সর্বনিম্ন ৩৫ হাজার টাকা বেতনে বৈষম্যহীন নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন।
২. ২০১৫ সালের পে স্কেল গেজেটে প্রত্যাহারকৃত ৩টি টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল।
৩. সব স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে গ্রাচুইটির পাশাপাশি পেনশন প্রবর্তন।
৪. ব্লক পোস্টে কর্মরতসহ সব পদে কর্মচারীদের পদোন্নতি বা ৫ বছর পর পর উচ্চতর গ্রেড প্রদান।
৫. বাজারমূল্য ও মুদ্রাস্ফীতি বিবেচনায় সব ভাতা পুনঃনির্ধারণ ও রেশন ব্যবস্থা প্রবর্তন।
৬. চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর ও অবসরের বয়স ৬২ বছর নির্ধারণ।
৭. উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত পদধারীদের চাকরিকাল গণনায় বৈষম্যমূলক আদেশ বাতিল।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলমান। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা পে স্কেলের দাবিতে আন্দোলন করে আসছিলেন। সেসময় সরকার একটি কমিটি গঠন করলেও নির্বাচনের আগে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।