ভোলার চরফ্যাশনের রসুলপুর ইউনিয়নের কলেরহাট এলাকায় আব্দুর রহিম ভুট্টো (৪৫) নামের এক কৃষককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। তিনি এলাকার মৃত আখতারুজ্জামান সোহেলের ছেলে।
গতকাল শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে কলেরহাট রাস্তার মাথা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে ঘটনার প্রায় ১৬ ঘণ্টা পার হলেও বিকেল পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি এবং কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
নিহতের পরিবার জানায়, ভুট্টোর ছেলে আমির হোসেনের সঙ্গে স্থানীয় আমজাদ ও বেল্লালের বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই তারা আব্দুর রহিম ভুট্টোকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। পরিবারের অভিযোগ, এর আগের দিন শুক্রবার রাতে সম্রাট নামের এক যুবক আমির হোসেনকে ফোন করে বাড়ি থেকে ডেকে নেয়। পরে আমজাদ ও বেল্লাল তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। বর্তমানে তিনি বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে বাড়ি ফেরার পথে কলেরহাট রাস্তার মাথায় দুর্বৃত্তরা ভুট্টোর ওপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের চাচাতো ভাই মো. ফিরোজ জানান, শনিবার সন্ধ্যার পর কলেরহাট বাজারে চা খাওয়ার সময় আমজাদ ও বেল্লাল ভুট্টোর কাছে তার ছেলের সঙ্গে টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিষয় জানতে চান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে বাজারের লোকজন বিষয়টি মিটিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর তিনি চরফ্যাশনে এসে ভুট্টোকে হত্যার খবর পান।
পরিবারের দাবি, ভোটের আগে ও ভোটের দিন আমির হোসেনের দুটি ছাগল নিয়ে যায় আমজাদ ও বেল্লাল। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়, যার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তবে স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, মাদক সংক্রান্ত টাকার বিরোধ থেকেই এ সংঘর্ষের সূত্রপাত। শুক্রবার সকালে এ নিয়ে আমির হোসেনের সঙ্গে অভিযুক্তদের দ্বন্দ্ব হয়। পরে তাকে ডেকে নিয়ে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়।
সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এমন হত্যাকাণ্ডে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফখরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনাটির পেছনে মাদক সংশ্লিষ্টতা ও অন্যান্য বিষয় রয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। বিষয়টি তদন্তাধীন। এখনো পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি, তবে দাফন শেষে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। পুলিশ জড়িতদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে।