ফতুল্লায় এনসিপি কর্মীকে যুবদল নেতার মারধরের অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় দোকানের বকেয়া টাকা নিয়ে তর্কে এনসিপি কর্মীকে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন যুবদল সভাপতির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উভয় গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। গতকাল রবিবার দুপুরে ফতুল্লার মধ্য রসুলপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে মারধরের অভিযোগ মিথ্যা দাবি করেছেন যুবদল সভাপতি। খবর পেয়ে যৌথ বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শনিবার রাত ১১টায় কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মাসুম রাজের চাচা হানিফ মিয়ার দোকান থেকে কোমল পানীয় নিয়ে টাকা পরে দেওয়ার কথা বলে চলে যাচ্ছিলেন এনসিপি কর্মী সোহাগ। এ সময় দোকানদার হানিফ তাকে বাকি দেবেন না বলে জানান। তখন সোহাগ দোকানদারকে গালি দেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্ক হয়। স্থানীয় লোকজন সোহাগকে দূরে সরিয়ে দেয়। এ সময় হানিফ মিয়াকে হুমকি দিয়ে চলে যান সোহাগ। গতকাল সকালে বিষয়টি হানিফ তার ভাতিজা মাসুম রাজকে জানালে তিনি দলবল নিয়ে রাস্তা থেকে সোহাগকে ধরে তার দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে যান এবং মারধর করেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা যুব শক্তি সদস্য সচিব নাসিম আহমেদ বলেন, কুতুবপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মাসুম রাজ জুলাই আন্দোলনের পর কুতুবপুর এলাকায় সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্ম করে সাধারণ মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছেন। একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাদের এনসিপির কর্মী সোহাগকে রাস্তা থেকে দলবল নিয়ে তার ক্লাবে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সোহাগকে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে সোহাগকে উদ্ধার করে থানায় খবর দেওয়া হয়েছে। আমাদের দাবি, মাসুমকে গ্রেপ্তার করা হলে এলাকাবাসী শান্তিতে থাকতে পারবে।

মাসুম রাজ বলেন, সোহাগ কোনো দলের কর্মী নয়। সে এলাকায় বখাটে এবং মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত। এলাকার প্রতিটি মুদি দোকানদারকে হয়রানি করে। সিগারেট-কোমল পানীয়সহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে টাকা পড়ে দেবে বলে চলে যায়। এরপর টাকা চাইলেই নানাভাবে হুমকি দেয়। গত শনিবার রাতেও হানিফ মিয়ার দোকান থেকে মোজো নিয়ে টাকা না দিয়ে চলে যাচ্ছিল। তখন টাকা চাওয়ায় বৃদ্ধ দোকানদার হানিফকে মারধর করতে যায়। গতকাল সকালে সোহাগ ও তার মা পারভিনকে ডেকে আমাদের দলীয় কার্যালয়ে আনি। এরপর উভয়পক্ষের কথা শুনি। তখন সোহাগকে তার মা পারভিন বেগম চড়-থাপ্পড় দিয়ে হানিফ মিয়ার সঙ্গে মিলিয়ে দেন।