নীলফামারীতে গাড়িচাপা দিয়ে সিদ্দিক আলী নামের এক পথচারীকে হত্যা মামলার এজাহার নামীয় আসামি জেলা সদর উপজেলার ইটাখোলা ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান হেদায়েত আলী শাহ ফকির (৬০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নীলফামারী থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইটাখোলার সিংদই ফকিরপাড়াস্থ নিজবাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
তিনি ওই ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মৃত আব্দুর সাত্তার শাহ ফকিরের ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, উক্ত মামলার প্রধান আসামি সাবেক সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নুরও গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে রাজধানীর কারাগারে বন্দী রয়েছেন।
জানা যায়, উক্ত ইউপি চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন কৃষকলীগের জেলা কমিটির সহসভাপতি ও সদর উপজেলা কৃষকলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। ২০২২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি দলের পক্ষে মনোনয়ন না পেয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ইউপি চেয়ারম্যান পদে আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। এতে ২০২২ সালের ২৯ জানুয়ারি তাকে দলের সকল পদপদবী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল বলে জানা যায়।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সময় উক্ত ইউপি চেয়ারম্যান গত ২০ জানুয়ারি জেলা বিএনপি অফিসে উপস্থিত হয়ে ইটাখোলা ইউনিয়ন পরিষদের ৯ জন ইউপি সদস্যসহ আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেন।
জানা যায়, নিহত কৃষক সিদ্দিক আলীর ছেলে জেলা সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের আকাশকুড়ি গ্রামের লিটন রহমান বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ২২ অক্টোবর ওই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নুর, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মমতাজুল হক সহ নামীয় ২০২ জন ও অজ্ঞাত ১ হাজার থেকে ১২০০ আসামি করা হয়। ওই মামলায় ১১৬ নম্বর আসামি উক্ত ইউপি চেয়ারম্যান হেদায়েত আলী শাহ ফকির।
মামলায় বলা হয়, কৃষক সিদ্দিক আলী ২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর বাড়ির অদুরে রামগঞ্জহাট বাজারে খরচ করতে যান। ওই সময় আওয়ামী লীগের ওই আসামিরা এলাকার বিএনপি নেতা গোলাম রব্বানীর বাড়িতে হামলা চালায় এবং এলাকার মানুষজনের ওপর এলোপাতাড়ি মারধর করে। পরে কৃষক সিদ্দিক আলী রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে সাবেক সংসদ সদস্য মামলার প্রধান আসামি আসাদুজ্জামান নুরকে বহনকারী গাড়ি দিয়ে কৃষক সিদ্দিক আলীকে চাপা দিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। মামলায় বলা হয় ওই সময় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় নিহত কৃষক সিদ্দিক আলীর হত্যা মামলা দায়ের করতে পারেননি বাদী। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পেক্ষাপটের পর সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় নিহতের ছেলে মামলাটি দায়ের করেন।