সাড়ে ৭ হাজার টাকা বেতনে জীবন চলে না: গ্রাম পুলিশ

সারাদেশে গ্রাম পাহারাদার হিসেবে নিযুক্ত রয়েছে গ্রাম পুলিশ বা চৌকিদার। এরা জীবন যুদ্ধে এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ ও গ্রাম পাহারায় কাজ করেন। এদের মাসিক বেতন নেই। এরা ত্রৈমাসিক বেতনে নিয়োজিত কর্মচারী। প্রতিমাসে এদের সম্মানি বা বেতন হাজিরা সাড়ে ৭হাজার টাকা নির্ধারিত হয়। এতে অর্ধেক ইউনিয়ন পরিষদ বাকি অর্ধেক সরকারী কোষাগার থেকে দেয়া হয়। এদের চাকরি শেষ অথবা মারা গেলে ৫০হাজার টাকা দেওয়া হয়। একজন গ্রাম্য চৌকিদার ৬০বছর বয়স পর্যন্ত চাকরি করেন। এতে জীবনের গ্লানী অনেকটাই শেষ। জীবন চিত্রে এদের মান প্রজাতন্ত্রে সর্বশেষ ধাপ। তবে এদের কাজ পরিষদ ও গ্রাম পাহারার মতো ব্যাপক ও জনগুরুত্বপূর্ণ।

কথা হয়েছিল লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের গ্রাম্য পুলিশ চর কালকিনির মো.খোকনের সঙ্গে। তিনি বলেন, চৌকিদারের চাকরি এটা জীবনের সঙ্গে সংগ্রাম বা যুদ্ধ করার চাকরি। মাসে সাড়ে ৭হাজার টাকা বেতন পান। তাও প্রতি তিন মাস পর পর বেতন হয়। এতে সংসার, পরিবার কিছুই চলে না। ঠিকমত জীবন ও সংসার চালাতে রীতিমত যুদ্ধ করতে হয়। এই জীবনের কোন দাম নেই। চৌকিদারগণ সমাজের মূল্যহীন মানুষ হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রতি মাসে মুদিদোকান, চা দোকান, চাল, ঔষধ দোকানে বাকি করতে হয়। দোকানিদের হাতে-পায়ে ধরে সদাই নিয়ে সংসার চালাইতে হয়। মাঝেমধ্যে না খেয়ে থাকতে হয়। সম্পূর্ণ মানবেতন জীবনের আমরা অভ্যস্ত হয়ে পড়ছি। মাঝেমাঝে ওসি এবং ইউএনও স্যারদের বললে তারা ধমকের সহিত বলেন না পোষালে চাকরি চেয়ে দেন। তখন আর ভয়ে কিছু বলিনি।

চর কালকিনির দোপাদার মেজবাহ্ বলেন, বেতন পান তিন মাস পরপর। তার মাঝেমধ্যে চার মাসও লাগে। এই জীবনে তাদের কোন দাম বা মূল্য নেই। বাচ্চাদের লেখাপড়া করাইতে পারে না। অসুস্থ হলে ঔষধ কিনতে পারে না। চাকরি শেষ হলে ৬০হাজার টাকা পান। তা দিয়ে কি হয়..? প্রশ্ন করেন। সরকারী চাকরিজীবিরা চাকরি শেষ হলে মোটা অংকের টাকা পান, কিন্তু চৌকিদারদের বেলায় বৈষম্যে করেন। এতে খুব কষ্ট ও দুঃখ পান। বেতন ও এককালীন ভাতা সম্মানজনক হইলে জীবন ও মান বৃদ্ধি পেত।

সারাদেশে সরকার সবধরণের চাকরিজীবিদের বেতন বৃদ্ধি ও ভাতা সংস্কার করলেও গ্রাম পুলিশ বা চৌকিদারদের বিষয়ে নজরে নেয় না। বিষয়টা খুবই দুঃখজনক দাবি করেন একাধিক গ্রাম পুলিশ।

পুলশ সূত্রে জানান, প্রতি সপ্তাহে গ্রাম পুলিশদের থানায় হাজিরা দিতে হয়। তাদের পুলিশকে সহযোগীতা ও সহায়তা প্রদান করতে হয়। এবং ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে সহযোগীতা দিতে হয়। গ্রাম পুলিশের কাজ গ্রাম ভিত্তিক হলেও সবসময় তাদের আইনী সহায়তায় থাকতে হয়। সরকারী বিভিন্ন নির্বাচনী ডিউটি ও এলাকার নিরাপত্তাজনিত বিষয়ে এদের কাজ করতে হয়। পুলিশ এবং গ্রাম পুলিশ সহযোগি দিসেবে কাজ করেন।

কমলনগর থানা ইনচার্জ (ওসি) মো.ফরিদুল আলম বলেন, গ্রাম পুলিশ যে বেতন বা সম্মানি পান এটা বর্তমান বাজারে নিম্ম বেতনও বলা যায় না। এদের বেতন এবং চাকরির সম্মানী দুটোই বৃদ্ধি হোক এটা চাচ্ছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাহাত উজ জামান বলেন, গ্রাম পুলিশ বা চৌকিদার এদের মাসিক বেতন এটা সত্যিই অনেক কম। বর্তমান বাজারে সংসার পরিবার চালাতে এটা কোনমতে সম্ভব না। অধিদপ্তরের বিষয় তো তারাই ভালো জানেন। তবে তাদের বিষয়ে কাজ চলছে যতটুকু জানি।