মানিকগঞ্জ-৩ (সাটুরিয়া-মানিকগঞ্জ সদর আংশিক) আসন থেকে বিপুল ভোটে সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য আফরোজা খানম রিতা মন্ত্রী পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টা ১৮ মিনিটে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের মন্ত্রীসভায় স্থান পাওয়া ২৫ জন সদস্যকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
জানা গেছে, নতুন এই দায়িত্বকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আফরোজা খানম রিতাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্ধন জানিয়ে পোষ্ট দিচ্ছেন।
আফরোজা খানম রিতা প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রীসভায় স্থান পাওয়ায় বিষয়টি এলাকায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা এটিকে মানিকগঞ্জবাসীর জন্য গৌরবের বিষয় হিসেবে দেখছেন।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল কুদ্দুছ খান মজলিশ মাখন বলেন, আফরোজা খানম রিতা এর আগে জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছে। তিনি বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক। সাটুরিয়া ও মানিকগঞ্জ অঞ্চলের উন্নয়ন, অবকাঠামো সম্প্রসারণ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের অগ্রগতিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। সাধারণ মানুষ আশা করছেন, জন প্রতিনিধি হিসেবে যেমন তিনি আস্থা অর্জন করেছেন, তেমনি মন্ত্রী হিসেবেও সর্বস্তরের মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেবেন।
মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী আফরোজা খানম রিতা গেল ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৫ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তিনি মুন্নু গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান। তার বাবা প্রয়াত শিল্পপতি হারুনার রশিদ খান মুন্নু ছিলেন মানিকগঞ্জ-২ এবং মানিকগঞ্জ-৩ আসনে চারবারের সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীও ছিলেন তিনি।
বাবার হাত ধরেই রাজনীতিতে আসেন আফরোজা খানম। আফরোজা খানম রিতা প্রথমে মানিকগঞ্জ-২ আসনে ২০০১ সনে উপ নির্বাচনে অংশ গ্রহণের মাধ্যমে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। পরে ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেন। ২০১০ সালে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। পরের বছর ২০১৩ সালে জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির আরেক সদস্য মো. আবুল বাশার সরকার বলেন, মানিকগঞ্জ-৩ আসন দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি আসন হিসেবে পরিচিত। এবার সেই আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে আফরোজা খানম রিতা সরাসরি মন্ত্রীসভায় যোগ দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।