ময়না ও টিয়াপাখি মূলত মানুষের কণ্ঠস্বর এবং আশপাশের শব্দের নিখুঁত অনুকরণ বা নকল করে কথা বলে, নিজেরা এর অর্থ বোঝে না। এই পাখিদের মানুষের মতো ভোকাল কর্ড বা স্বরতন্ত্রী নেই। এরা শ্বাসনালির ‘সিরিংক্স’ নামক অঙ্গ ও জিহ্বা ব্যবহার করে মানুষের কণ্ঠস্বর তৈরি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু টিয়ার নিজস্ব ‘সিগনেচার কল’ থাকে, যা তারা সামাজিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে মানুষের নাম বা কথার মতো ব্যবহার করে। মূলত, অর্থ না বুঝেই তারা মানুষের কথা নকল করে, যাকে ‘প্যারোটিং’ বলা হয়। এই সিরিংসের সাহায্যেই গলার পেশি সংকুচিত ও প্রসারিত করে শব্দ বের করতে পারে তারা। এক্ষত্রে পাখিগুলো ঠোঁট ও জিভের সাহায্য নেয়। অনেক সময় দেখা যায়, শব্দ জুড়ে একটা বাক্যও তারা তৈরি করে ফেলে। তবে সেটা সঠিক প্রশিক্ষণের ওপর নির্ভর করে। পক্ষীবিদরা বলেন, ময়নার দল যেখানে ঝাঁকে ঝাঁকে থাকে, সেখানে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তীব্র আওয়াজ বা শিষের মতো শব্দ করে। এটাই তাদের কথোপকথের মাধ্যম। পুরুষ ও স্ত্রী ময়না এবং টিয়া উভয়েরই এই গুণ থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৩ রকমের শব্দ করতে পারে ময়না-টিয়া। পাহাড় বা জঙ্গলে থাকা পাখিরা এই শব্দ ও শিষের মাধ্যমেই ভাব বিনিময় করে, বিপদ সঙ্কেত দেয়। মানুষের পোষ্য হলে তারা কথা বলার ধরন শিখতে পারে।