সন্তানের প্রতি মা-বাবার করণীয়

প্রত্যোক মা-বাবার উচিত সন্তানকে ইসলামের আদর্শের ওপর গড়ে তোলা। সন্তান পিতা-মাতার সবচেয়ে প্রিয়। কতটা প্রিয় তা বোঝানোর প্রকৃত ভাষা কারও নেই। প্রিয় বা ভালোবাসার সর্বোচ্চটা বোঝাতেই মানুষ সন্তানের দৃষ্টান্ত পেশ করে থাকে। অনুরূপ কেয়ামতের বিভীষিকা বোঝানোর জন্যও মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে সন্তানের ভালোবাসার প্রসঙ্গ উপমা হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, সন্তানের প্রতি ভালোবাসা থাকা সত্ত্বে কেয়ামতের ময়দানে তাদের চিনবে না।

পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘সেদিন মানুষ তার ভাই থেকে পালাবে, নিজ পিতা-মাতা থেকেও এবং স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি থেকেও।’ (সুরা আবাসা ৩৪-৩৬)। অন্য আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘সেদিন তোমরা তা দেখতে পাবে, সেদিন প্রত্যেক স্তন্যদাত্রী সেই শিশুকে পর্যন্ত ভুলে যাবে যাকে সে দুধ পান করিয়েছে।’ (সুরা হজ ২) তাই তো স্বামী-স্ত্রী বিয়ের পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর তাদের কত স্বপ্ন, কত ভাবনা থাকে যে, তাদের কোল জুড়ে নতুন মেহমানের আগমন ঘটবে, যার আগমনে তাদের ঘর আলোকিত হবে।

ফুটফুটে চেহারার মায়াবী ওই সন্তান দেখে হাসবে তাদের মন। আমাদের যাপিত জীবনে যত ভালো ও নেককাজ করি না কেন তাতে আমাদের কলিজার টুকরো সন্তানদেরও শরিক রাখা জরুরি। আমরা দান-সদকা করলে বা নামাজ-রোজা পালন করলে তাতে সন্তানদেরও শরিক রাখা দরকার। অনুরূপভাবে ইসলামের যেকোনো কাজে বা জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও সন্তানদের শরিক রাখা ভালো। আমল-আখলাক, আদব ও ইবাদত ইত্যাদি সব ভালো কাজে ও শিক্ষা-দীক্ষায় সন্তানকে সঙ্গে রাখলে এর সুফল দুনিয়াতেও মিলবে, পরকালেও মিলবে।

পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘স্মরণ করুন ওই সময়ের কথা, যখন ইবরাহিম বাইতুল্লাহর ভিত উঁচু করছিল এবং ইসমাইলও (তার কাজে শরিক ছিল এবং তারা বলেছিল) হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পক্ষ থেকে এ সেবা কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনিই সবকিছু শোনেন এবং সবকিছু জানেন।’ (সুরা বাকারা ১২৭) একটু ভাবুন, ইবরাহিম (আ.) কাবা শরিফ নির্মাণ কাজে আপন পুত্র ইসমাইল (আ.)-কে কীভাবে শরিক রেখেছিলেন।

অন্যদিকে লোকমান (আ.) তার পুত্রকে নামাজ ও ইসলামের মৌলিক কিছু বিষয় শিক্ষা দিতে বলেন, ‘হে বৎস! নামাজ আদায় করো, মানুষকে সৎকাজের আদেশ দাও, মন্দ কাজে বাধা দাও এবং তোমার যে কষ্ট দেখা দেয়, তাতে ধৈর্যধারণ করো। নিশ্চয়ই এটা অনেক হিম্মতের কাজ।’ (সুরা লোকমান ১৭)

এভাবে অনেক হাদিস থেকেই উক্ত বিষয়টি প্রতীয়মান হয়। হজরত ওমর ইবনে আবু সালামাহ (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.)-এর তত্ত্বাবধানে ছিলাম। খাবার পাত্রে আমার হাত চারপাশে ঘুরত। তিনি বললেন বালক! তুমি বিসমিল্লাহ বলে খাও, তোমার ডান হাতে খাও এবং নিজের সম্মুখ থেকে খাও।’ (সহিহ মুসলিম)

অন্য এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, হাসান ইবনে আলি (রা.) একবার একটি সদকার খেজুর মুখে দিলেন, তখন রাসুল (সা.) তাকে বললেন, এটা ফেলে দাও। তুমি কি জানো না, আমাদের জন্য সদকার মাল হারাম? (সহিহ বুখারি)

উল্লিখিত আয়াত ও হাদিস থেকে বোঝা যায়, পিতা-মাতার জন্য আপন সন্তান-সন্ততিকে শৈশবকাল থেকেই নামাজসহ ইসলামের মৌলিক সব আমল শিক্ষা দেওয়া আবশ্যক। সন্তানকে একজন খোদাভীরু সফল মুমিন বানানোও আবশ্যক। কারণ এর প্রভাব সন্তানের ওপর প্রতিফলিত হয়। আর তাই এটা শুধু একটি দায়িত্বই নয়, বরং একটি ইবাদতও। মহান আল্লাহ আমাদের সন্তানদের ইসলামের মৌলিক নীতিমালার ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলার তওফিক দান করুন। যেন আমাদের

সন্তানরা সৎকাজ করে এবং মন্দ কাজ থেকে দূরে থাকে। তাহলে সন্তানের এমন ভালো কাজের একটা সওয়াব মা-বাবাও পাবেন। এমনকি মা-বারার মৃত্যুর পরও এমন সওয়াব অব্যাহত থাকবে।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক ও সাংবাদিক