তারেক রহমানের নেতৃত্বে ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে যে সরকার গঠিত হয়েছে, তাতে আওয়ামী লীগ (এখন কার্যক্রম নিষিদ্ধ) অধ্যুষিত গোপালগঞ্জসহ কয়েকটি জেলা এবার মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পায়নি। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জামায়াত অধ্যুষিত জেলাগুলো থেকেও কাউকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী করা হয়নি। এমনকি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত নোয়াখালীও কোনো মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী পায়নি। এমনকি খুলনা জেলা থেকেও বিএনপির কাউকে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী করা হয়নি। অন্তত ২৫ জেলা থেকে কোনো মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী করা হয়নি এবারের সরকারে। মন্ত্রিসভায় কুমিল্লা অঞ্চলের আধিক্য দেখা গেছে বিশ্লেষণে। তবে, রাজধানী ঢাকার আসন থেকে জয়ী প্রার্থীকে মন্ত্রিসভার সদস্য করা হলেও ঢাকার আশপাশের জেলাগুলো মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পায়নি।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, রংপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মেহেরপুর, সাতক্ষীরা ও চুয়াডাঙ্গাÑ এই ৮ জেলার ৩০টি আসনে বিএনপি জেতেনি বিএনপি। ফলে এই জেলা থেকে কোনো মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী নেই। যশোরের ছয়টি আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বিএনপি হেরেছে। যশোর-৩ সংসদীয় আসন থেকে বিজয়ী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। তার বাবা প্রয়াত তরিকুল ইসলাম বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী ছিলেন।
আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত গোপালগঞ্জ থেকে এবারই প্রথম বিএনপির তিনজন সংসদ সদস্য হয়েছেন। তবে এ জেলার কেউ মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলা থেকেও কাউকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী করা হয়নি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুরের তিনটি এবং মাদারীপুরের তিনটি আসনের মধ্যে দুটিতে বিএনপি প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। তবে, ফরিদপুর ও রাজবাড়ী থেকে একজন করে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপির সাবেক মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমানের মেয়ে শামা ওবায়েদ ইসলাম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। অন্যদিকে রাজবাড়ী থেকে প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।
ঢাকা জেলার ২০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে বিএনপি প্রার্থীরা এবার ১৫টি আসনে জয়ী হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা-১০ থেকে বিজয়ী শেখ রবিউল আলম প্রথমবার সংসদ সদস্য হয়েই পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। ঢাকার আসনগুলো থেকে চারজন হয়েছেন প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন চারজন। এর মধ্যে ঢাকা-১৬ আসনে হেরে যাওয়া সাবেক ফুটবলার আমিনুল হক টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন।
ঢাকার দোহার, নবাবগঞ্জ, সাভার ও ধামরাইসহ পাঁচটি আসনে বিএনপি প্রার্থীরা জয়ী হলেও মন্ত্রিসভায় কেউ স্থান পাননি। এ ছাড়া ঢাকার আশপাশের জেলা মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর থেকে বিএনপির টিকিটে বিজয়ী কেউ এবার মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। এবারের নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটিতে জয়ী হয়েছেন বিএনপিদলীয় প্রার্থীরা। তবে, তাদের কেউ মন্ত্রিসভায় যেতে পারেননি। এ ছাড়া গাজীপুরের পাঁচটি আসনের চারটিতে বিএনপি প্রার্থীরা হলেও এবার এই জেলা থেকে কাউকে মন্ত্রিসভায় নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে টাঙ্গাইল জেলা থেকে এবার সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।
এবারের নির্বাচনে রংপুর বিভাগে ৩৩টি আসনের মধ্যে বিএনপি ১৩টি আসন পেয়েছে। জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ১৭টি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জয়ী হয়েছে দুটি আসনে। কিন্তু এ বিভাগের কয়েকজন মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও থেকে বিজয়ী বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। দিনাজপুর থেকে নির্বাচিত এ জেড এম জাহিদ হোসেনও পূর্ণমন্ত্রী হয়েছেন। এ ছাড়া লালমনিরহাট থেকে নির্বাচিত আসাদুল হাবিব দুলু পূর্ণমন্ত্রী ও পঞ্চগড় থেকে নির্বাচিত ফরহাদ হোসেন আজাদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।
রাজশাহী বিভাগের ৩৯টি আসনের মধ্যে বিএনপি প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ২৮টিতে। বিএনপি প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। বাকি ১১টি আসনে জয় পেয়েছে জামায়াত। এ বিভাগের মধ্যে সিরাজগঞ্জ থেকে ইকবাল হাসান মাহমুদ, রাজশাহীর মিজানুর রহমান মিনু পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। ইকবাল হাসান মাহমুদ ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।
অন্যদিকে মিজানুর রহমান মিনু রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র ছিলেন। এই বিভাগ থেকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন বগুড়া থেকে নির্বাচিত মীর শাহে আলম, নাটোর থেকে বিজয়ী ফারজানা শারমিন পুতুল, জয়পুরহাট থেকে নির্বাচিত আবদুল বারী ও সিরাজগঞ্জের এম এ মুহিত। ফারজানা শারমিনের বাবা প্রয়াত ফজলুর রহমান পটল ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির সরকারে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।
এবারের নির্বাচনে বৃহত্তর কুমিল্লা থেকে বিএনপি ১১টি আসনের মধ্যে আটটিতে জয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থীরা। এ জেলা থেকে মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ (টেকনোক্র্যাট), জাকারিয়া তাহের ও শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। এ ছাড়া চাঁদপুর থেকে নির্বাচিত আ ন ম এহসানুল হক মিলন পূর্ণমন্ত্রী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে নির্বাচিত বিএনপি জোটের প্রার্থী জোনায়েদ সাকি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। এবারের নির্বাচনের পর নোয়াখালী জেলায় কোনো মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নেই। তবে ফেনী থেকে আবদুল আউয়াল মিন্টু ও লক্ষ্মীপুর থেকে শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।